
নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার টুনিপাড়া এলাকায় মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক যুবক ও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টুনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফা বেগম (৩৯) শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনার বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানা-য় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। তিনি জানান, স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল।এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পূর্বের সেই বিরোধের জেরে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র, হাসুয়া, লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তার দেবর মতিনকে লক্ষ্য করে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মাথায় তিনটি সেলাই দিতে হয়। একই সঙ্গে হাসুয়ার আঘাতে তার ডান হাতের একটি আঙুল মারাত্মকভাবে জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ সময় মতিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আরিফা বেগমের ছেলে মেহেদী হাসানকেও হামলাকারীরা মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে। তার মাথাতেও সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার সময় লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরের ফলে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।আরিফা বেগম অভিযোগ করেন, হামলার সময় তিনি বাধা দিতে গেলে হামলাকারীদের কয়েকজন তাকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। পাশাপাশি হামলাকারীরা তাদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।হামলার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।এ ঘটনায় আরিফা বেগম ১০ জনকে আসামি করে বাগাতিপাড়া মডেল থানা-য় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, টুনিপাড়া এলাকায় মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।