বকশিস আদায় বন্ধের নির্দেশে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকদের অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতি

রোগীদের কাছ থেকে তথাকথিত ‘বকশিস’ আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করেছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। শনিবার ৭ মার্চ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত দাপ্তরিক কাজে খুলনায় অবস্থান করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশে ১০৬ জন স্বেচ্ছাসেবককে এই হাসপাতালে বিনামূল্যে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। কোনো বেতন না থাকলেও তারা মূলত রোগীদের ট্রলি বহন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে যাতায়াতের কাজে সহায়তা করতেন। এর বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে ‘বকশিস’ নামে অর্থ আদায় করতেন তারা। একপর্যায়ে এটি বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজিতে রূপ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রলি ব্যবহারের জন্য রোগীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করা হতো। টাকা না দিলে অনেক সময় রোগীদের সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতো। এভাবে ‘বকশিস’ বাণিজ্যের কারণে হাসপাতালে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।এর প্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ওয়ার্ডে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা জারি করে জানায়, কোনো রোগীর কাছ থেকে বকশিস বা অন্য কোনো অজুহাতে টাকা নেওয়া যাবে না। রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দিতে হবে। এ নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।এই নির্দেশের প্রতিবাদেই শনিবার স্বেচ্ছাসেবকরা ‘বকশিস’ আদায়ের সুযোগ পুনর্বহালের দাবিতে কাজ বন্ধ করে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক উজ্জ্বল, অমিত, লক্ষণ ও হালিমসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বকশিস বা টাকা ছাড়া তারা কাজ করতে পারবেন না। টাকা নেওয়া বেআইনি—এটি জানলেও তারা দাবি করেন, “টাকা না পেলে আমরা খাব কী? বকশিস না থাকলে আমাদের সংসার চলবে না।” বকশিস বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তারা।এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়কের চলতি দায়িত্বে থাকা ডা. হিমাদ্রি শেখর সরকার বলেন, তত্ত্বাবধায়ক জনস্বার্থ এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ নির্দেশ দিয়েছেন। যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে চান, তাদের নির্ধারিত শর্ত মেনেই কাজ করতে হবে। বকশিসের নামে রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নেই।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031