চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান–১ আসাদুল হক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা চিরকুমার সাহার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সাতজন সদস্য। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে তারা এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা হলেন— ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহিনুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলমগীর হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আরিফ হোসেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমিনুল ইসলাম, ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্য আইরিন বেগম, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্য লতা খাতুন এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্য সোহাগী খাতুন।তারা অভিযোগ করে বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল হক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা চিরকুমার সাহা পরস্পরের যোগসাজশে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। কয়েকদিন আগে প্রায় ২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে তাদের স্বাক্ষর জাল করে টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়েছে। নামমাত্র পিআইসি দেখানো হলেও প্রকল্প সম্পর্কে সদস্যদের কিছুই জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে দরিদ্র কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণের কথা থাকলেও বিষয়টি গোপন রাখা হয় বলে জানান সদস্যরা। তাদের দাবি, প্রায় ৮০০ টাকা মূল্যের ১০০টি স্প্রে মেশিন কেনা হলেও শনিবার সরকারি ছুটির দিনে গোপনে বিতরণের চেষ্টা করা হয়। এদিন সকালে কৃষকদের ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনা হলেও পরে কোনো বিতরণ কার্যক্রম না হওয়ায় তারা হয়রানির শিকার হন।ইউপি সদস্যরা আরও বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সেগুলো সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করা হয় না। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে মাসিক সভা হওয়ার কথা থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।অভিযোগকারী সদস্যরা জানান, প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তারা অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “আমি প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। আমি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।”এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা চিরকুমার সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় সদর থানা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।










