
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে আয়োজিত হয় ইফতার মাহফিল। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে আলমডাঙ্গার ঐতিহাসিক দারুস সালাম ময়দানে এ গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-1 আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা জামায়াতের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, জেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হোসেন, আইন আদালত বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দারুস সালাম, পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী এবং জেলা জামায়াত নেতা কাইয়ুম উদ্দিন হিরোকসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজা। সভার শুরুতে পৌরসভাসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী নেতারা নবনির্বাচিত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, পবিত্র রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস। এ মাস মানুষকে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। রমজানের এই শিক্ষাকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার, সততা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, রমজানের সিয়াম কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি আত্মসংযম, তাকওয়া ও নৈতিকতার এক মহান প্রশিক্ষণ। রোজা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, অন্যায় ও অবিচার থেকে দূরে থাকতে শেখায় এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মানসিকতা গড়ে তোলে।
তিনি বলেন, রমজানের শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচারমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব।
আলোচনা সভা শেষে ইফতারের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরে অতিথিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়।