আলমডাঙ্গার খোরদে ইউডিএফ প্রকল্পে নিম্নমানের ইটের রাস্তা নির্মাণছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খোরদ গ্রামে ইউডিএফ প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকার টেন্ডার পায় জাহিদুল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইট (২ ও ৩ নম্বর) ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এসব অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি ধারণ করতে গেলে স্থানীয় দৈনিক খাস খবর পত্রিকার সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম চঞ্চল এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল চ্যানেল ডিও-এর সাংবাদিক শামীম রেজাকে ঠিকাদার জাহিদুল ও তার আত্মীয়স্বজনরা বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিম্নমানের ইট দিয়ে হেরিংবোন প্যাটার্নে কাজ চলার ছবি তুলতে গেলে ঠিকাদারপক্ষ প্রথমে হুমকি-ধামকি দেয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে সক্ষম হলে ঠিকাদারের আত্মীয়স্বজন এসে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণকৃত ছবি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ঠিকাদারপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে কিছু লোকজনকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ফলে অনিয়ম দেখেও অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তথ্য সংগ্রহে তাদের সরাসরি বাধা দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়।

এ বিষয়ে ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান (সোহান) বলেন, “দুই নম্বর ইট ব্যবহারের বিষয়টি আমি দেখেছি। ফোনে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, ভুল করে কিছু ইট চলে এসেছে। যেহেতু টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ হয়েছে, এরপর আর কিছু জানি না।”

এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, কাজে যদি স্বচ্ছতা ও মান বজায় থাকে, তাহলে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আপত্তি থাকার কারণ কী? তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা আড়াল করতেই এমন ন্যাক্কারজনক আচরণ করা হয়েছে।

খোরদবাসী অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে সঠিক মান বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031