
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাকা ইউনিয়নের জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান হাফিজ হত্যার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ সোমবার বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার মুক্তমঞ্চে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সূচনা করেন হাফেজ নজরুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সদর আমির বিলাল হোসাইন।চুয়াডাঙ্গা পৌর শাখার সহকারী সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির শান্তর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর আমির অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের প্রিয় হাফিজ ভাই আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা গভীর শোক ও বেদনার সাথে স্মরণ করছি তাঁকে। কিন্তু একই সাথে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই কোন ব্যক্তি অন্যায় করলে তার বিচার করার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। কোনো সভ্য সমাজে কাউকে রাস্তায় নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল থেকে আমরা জনগণের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যারা এই নিকৃষ্ট ও জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি, এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। তারা কোনো দলের কর্মী বা নেতা কি না, সেটি আমাদের কাছে মুখ্য নয়। তাদের একটাই পরিচয় তারা সন্ত্রাসী। যারা আইনের তোয়াক্কা করে না, যারা দিনের আলোতে একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে, তারা নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসী। আমরা তাদের সেই পরিচয়েই চিহ্নিত করতে চাই। আমাদের দাবি এই সন্ত্রাসীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে এবং ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে তাদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। হাফিজুর রহমান হাফিজ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অতীতেও রাজপথে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব ইনশাআল্লাহ। ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, মানুষের অধিকার রক্ষায় আমরা আপসহীন। তবে ইতিহাস প্রত্যেকের অবস্থান নির্ধারণ করবে কে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, আর কে নীরব থেকেছে। আজ আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই সকল প্রকার সন্ত্রাস, অন্যায়, জুলুম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই নিজের কণ্ঠ উচ্চকিত করুন। সাধারণ ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া মানুষ, মুটে-মজুর আপনারা আপনাদের অধিকার সম্পর্কে এখনই সচেতন হোন।আজ যদি আপনি মনে করেন, এটা আমার বিষয় নয় তবে মনে রাখবেন, অন্যায়ের আগুন একদিন সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। আজ যদি একজন নিরীহ মানুষ আক্রান্ত হয় এবং আমরা নীরব থাকি, কাল যখন আপনার সন্তান, আপনার পরিবার আক্রান্ত হবে, তখন হয়তো আপনার পাশেও কেউ দাঁড়াবে না। আমরা সবাই একসাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই। হাফিজুর রহমান হাফিজ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা ইউনিট সদস্য আব্দুর রউফ, ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি সাগর আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে স্লোগান দেন।সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির মাহবুব আশিক শফি ও আনোয়ার হোসেন, ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাসুম বিল্লাহ, জেলা অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা সাহিত্য সম্পাদক আবু রায়হান, পৌর সভাপতি রাব্বি হাসান এবং সদর সভাপতি মুন্না রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।