ফরিদপুর জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এ অভিযানে চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মোট ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম (পিপিএম)।
পুলিশ জানায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি ইজিবাইক চুরির মামলা দায়ের হয় (মামলা নং-৩২)। মামলাটি রুজুর পর পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে চোর চক্রের হেফাজত থেকে ১৩টি ইজিবাইক, ৫টি অচল/পুরাতন ইজিবাইক, ইজিবাইক কাটার সরঞ্জাম এবং বিপুল পরিমাণ খুচরা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করত।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, চক্রটি চুরি করা ইজিবাইক দ্রুত রং পরিবর্তন করত এবং ইঞ্জিন নম্বর মুছে বা পরিবর্তন করে দিত, যাতে সনাক্ত করা না যায়। পরবর্তীতে এসব যানবাহন ও যন্ত্রাংশ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হতো।
পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “জনসাধারণের উপার্জনের বাহন রক্ষায় জেলা পুলিশ আপোষহীন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমির হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া রিপোর্টার্স ক্লাব ফরিদপুরের সভাপতি শফিউল মঞ্জুর ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক স্বপন মাহমুদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










