আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পুনর্বাসন প্রশ্নে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ নোবিপ্রবির সাদা দলের বিরুদ্ধে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও পুনর্বাসন ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ছয় মাস আগে প্রশাসনিকভাবে তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয় এবং এতে সাদা দলেরও সম্মতি ছিল। তবে সম্প্রতি একই বিষয় নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় সাদা দলের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির প্রশ্ন উঠেছে।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে’ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এ সময় সাদা দলের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ পুনর্বাসনের অভিযোগ তোলেন।তবে এ অবস্থানের সঙ্গে সাদা দলের পূর্ববর্তী সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের ১৩ আগস্ট রেজিস্ট্রার দপ্তরের সংস্থাপন শাখা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও সাবেক ট্রেজারার, এসিসিই বিভাগের অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর-কে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম রিজেন্ট বোর্ডের নির্দেশনা, রিজেন্ট বোর্ডের শিক্ষক প্রতিনিধি ও সিনিয়র শিক্ষকদের যৌথ সভার সুপারিশ, বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতামত এবং বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শর্তসাপেক্ষে এই অনুমতি প্রদান করা হয়।এর আগে ১১ আগস্ট রিজেন্ট বোর্ড সভার শিক্ষক প্রতিনিধি ও সিনিয়র শিক্ষকদের একটি যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষকদের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ ও পরবর্তী ব্যাচসমূহের একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার স্বার্থে শর্তসাপেক্ষে অনুমতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে চলা এবং প্রয়োজনে ক্লাস টেস্ট ও ফাইনাল পরীক্ষা নিতে ক্যাম্পাসে আসার সুপারিশ করা হয়।ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, ট্রেজারার ড. মো. হানিফ, সাদা দলের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ এবং এসিসিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুল আলম। সভা শেষে সিদ্ধান্তে একমত হয়ে উপস্থিত সদস্যরা স্বাক্ষর করেন বলে জানা যায়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের ফেরানোর আলোচনা শুরু হয় ৬৫তম রিজেন্ট বোর্ড সভা থেকে। পরবর্তী সময়ে একাধিক সভায় তিনজন শিক্ষক- ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর, শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বিপ্লব মল্লিক এবং ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান রিমনের বিষয় আলোচিত হয়। পরে ড. বিপ্লব মল্লিক ও ড. আনিসুজ্জামান রিমনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুরের বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্তের উপর অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে রিজেন্ট বোর্ড সভায় তা অনুমোদিত হয়।এদিকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক সংবাদ সম্মেলনে সাদা দল দাবি করে, শিবিরের নেতাকর্মীদের দিয়ে ‘মব’ তৈরি করে কয়েকজন শিক্ষককে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের বাইরে রাখা হয়েছে এবং তারা বেতন-ভাতা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, সিনিয়র প্রায় ২০ জন শিক্ষক নিয়ে সভা হয়েছিল। সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলা হয়। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান। স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে ঠিক মনে করতে পারছি না।”সাদা দলের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “সম্ভবত অনলাইন ক্লাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, ফিজিক্যালি আসার বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।”অন্যদিকে উপাচার্য ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, সাদা দলের শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষকদের সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অনলাইনে ক্লাস এবং পরীক্ষাসমূহ ফিজিক্যালি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থানকে তিনি “দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেন।সব মিলিয়ে পুনর্বাসন ইস্যুতে পূর্ববর্তী সম্পৃক্ততা ও সাম্প্রতিক প্রতিবাদের মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় সাদা দলের অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031