
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহত খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেনকে তাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সিঙ্গাশোলপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। অপরদিকে, প্রতিপক্ষের নিহত ওসিবুর মিয়াকে তার পৈত্রিক নিবাস তারাপুর গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছায়।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। খলিল শেখ ও ফেরদৌস হোসেনের স্বজনদের অভিযোগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়েরের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করে।
নিহত তাহাজ্জুদ শেখের স্ত্রী সুমী বেগম অভিযোগ করেন, সেহরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতির সময় ৫০-৫৫ জনের একটি দল বাড়িতে ঢুকে তার স্বামী ও শ্বশুরকে ঘর থেকে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। একইভাবে প্রতিবেশী ফেরদৌসকেও হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, “আমার তিন সন্তান এতিম হয়ে গেল।”
তাহাজ্জুদের বোন রিম্পা খানম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
অন্যদিকে, ফেরদৌস হোসেনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম চার মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার পাঁচ সন্তান এখন পিতৃহারা।” প্রবাসী ভাই রুবেল শেখ দাবি করেন, তার ভাই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
চারজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ ও র্যাব। সোমবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আটকরা হলেন— বনি শিকদার (৩৩), হালিম ফকির (৬০), তুফান মোল্যা (৩০), সদয় মোল্যা (৩৬), লাজুক ওরফে সূর্য্য শিকদার (৩২) ও জসিম মোল্যা (৩০)।
নড়াইল সদর থানা পুলিশ–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া জানান, বড়কুলা গ্রামে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক দুই চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যা ও উজ্জ্বল শেখের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ঘটনাস্থলেই খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ফেরদৌস হোসেন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রতিপক্ষের ওসিবুর মিয়া মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।