প্রটোকল ছাড়াই এমপির ঝটিকা অভিযান: আলমডাঙ্গায় সাব-রেজিস্ট্রি ও দপ্তরগুলোতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল কোনো পূর্বঘোষিত অনুষ্ঠান বা প্রশাসনিক প্রটোকল ছাড়াই আকস্মিকভাবে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে তিনি সরাসরি অফিসগুলোতে উপস্থিত হয়ে সেবার মান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন।

দিনের শুরুতে উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এমপি রাসেল। কৃষকদের অভিযোগ—সার ও বীজ বিতরণে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মাঠপর্যায়ে সেবার ঘাটতি—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় তিনি বলেন, “কৃষকরা যেন কোনো ভোগান্তির শিকার না হন, সার-বীজে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়—সেদিকে সর্বোচ্চ নজরদারি রাখতে হবে। কৃষি অফিসে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।” তিনি নিয়মিত মনিটরিং জোরদার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রারকে অফিস চলাকালে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়, সমিতির নামে অর্থ সংগ্রহ, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এ সময় এক গণমাধ্যম কর্মী বলেন, “বেলা ১টার সময়ে এমপি সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছেন অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসে নেই—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শুধু পরিদর্শন নয়, অতীতে যারা অবৈধ সুবিধা নিয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করা হোক। তাহলে ভবিষ্যতে অনিয়ম কমবে।” সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, “সরকারের নির্ধারিত রশিদ ছাড়া একটি টাকাও নেওয়া যাবে না। সমিতি বা অন্য কোনো নামে টাকা আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যদি দালালচক্র বা অনিয়ম থেকে থাকে, তা শক্ত হাতে দমন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন,
“আমি কোনো প্রটোকল দেখাতে আসিনি, বাস্তব অবস্থা দেখতে এসেছি। জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব। যেখানে অনিয়ম পাব, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এরপর পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে পৌর প্রশাসক পান্না আক্তারসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পৌর এলাকায় সেবা প্রদানে ধীরগতি, টেন্ডার ও ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন এবং পশুহাট ব্যবস্থাপনায় অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, পৌর এলাকার প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পশুহাটসহ সকল ইজারা উন্মুক্ত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে দিতে হবে। কোনো সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিস্বার্থের সুযোগ থাকবে না।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হোসেন টিপু, জেলা জামায়াতের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দারুস সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল, পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজাসহ জামায়াত ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এ সরেজমিন পরিদর্শন আলমডাঙ্গায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত এ ধরনের হঠাৎ পরিদর্শন হলে সরকারি দপ্তরগুলোতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার হবে। সব মিলিয়ে এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল আলমডাঙ্গায় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031