
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে যখন সারা দেশে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি, তখন নেত্রকোনার পূর্বধলায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। পিলারজুড়ে শ্যাওলার আস্তরণ, খসে পড়া রং, অপরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ—সব মিলিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির করুণ অবস্থা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভগুলো দীর্ঘদিনের অযত্নে মলিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রং খসে পড়ে সিমেন্ট বেরিয়ে এসেছে। প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতাও ছিল নিম্নমানের। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—বিশেষ দিবসের আগেও যদি এমন অবস্থা থাকে, তবে সারা বছর এর রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হয়?
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসন কেবল কিছু পোস্টার সাঁটিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির দায় সারার চেষ্টা করেছে। তবে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
এদিকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মাত্র তিনটি সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সংগঠনগুলো হলো— রাজপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব, পূর্বধলা রিপোর্টার্স ক্লাব এবং স্বর্ণ সুধা যুব উন্নয়ন সমিতি। একটি উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমন সীমিত উপস্থিতি স্থানীয়দের হতাশ করেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়া হলে নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব কমে যেতে পারে। তারা শহীদ মিনারের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান।
অপরদিকে, এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শহীদ মিনারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় সচেতন মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই স্মৃতিস্তম্ভে শ্যাওলার আধিপত্য কেবল অবহেলার চিত্রই নয়, এটি প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।