আলমডাঙ্গা উপজেলায় দিন দিন অবনতি ঘটছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। রাত নামলেই ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ধারাবাহিক একাধিক ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে উপজেলার বন্ডবিল রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি বেসরকারি কোম্পানির ডিএসআর-এর কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে বৈদ্যনাথপুর মাঠের ভেতর পণ্যবাহী ভ্যান থামিয়ে ফারুক নামের এক কোম্পানি ডিএসআরকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। অপহরণের সময় তার কাছ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এদিকে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার সাতকপাট এলাকায় সংঘটিত হয় আরেকটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা। ডাকাতদল একটি বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর দাবি, একের পর এক ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল ও সন্ধ্যায় সংঘটিত এসব ঘটনার কোনোটিই এখন পর্যন্ত উদঘাটিত হয়নি। অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। সন্ধ্যার পর মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক চলাচল। এলাকাবাসীর মতে, যমুনার মাঠ, সাতকপাট, বন্ডবিল রাস্তা ও বৈদ্যনাথপুর সড়ক দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। পূর্বে এসব স্থানে পুলিশের কড়া নজরদারি থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব ও টহল কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। এক সপ্তাহে তিনটি বড় ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। মামুন নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “আমি নিয়মিত মেহেরপুর থেকে যাতায়াত করি। বর্তমানে রাত ১০টার পর আলমডাঙ্গা স্টেশন থেকে শহরের বাইরে কোনো অটো বা ভ্যান যেতে চায় না। এতে ভোগান্তি বাড়ছে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহফুজ বলেন, “স্টেশনে নামার পর বাসায় যেতে ভয় লাগে। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে মনে হচ্ছে।” এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বানী ইসরাইল বলেন, “আমরা বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ভিকটিম উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। খুব শিগগিরই ঘটনা উদঘাটন হবে বলে আশা করছি।” এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।










