
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা পরিষদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
প্রথম প্রহরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেয়াজ মেহেদী। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পক্ষে অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল ও ওসি (তদন্ত) আজগার আলী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পৌরসভার পক্ষে পৌর প্রশাসক পান্না আক্তারসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও তার সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খাদ্য বিভাগ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা নির্বাচন অফিস, পাবলিক লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল, সেক্রেটারি মামুন রেজা, নায়েবে আমির ইউসুফ আলী ও পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলীর নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টুর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এসময় উপজেলা ও পৌর যুবদল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাফিজুর রহমানসহ শিক্ষকবৃন্দ, মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আশুরা খাতুন ও অন্যান্য শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলাউদ্দিন এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এছাড়া বণিক সমিতি, আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগার, নাগরিক উন্নয়ন কমিটি, বিদ্যুৎ অফিস, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলমডাঙ্গা জোনাল অফিস, উপজেলা কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক কে এম ফারুক।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা আরও অনেকেই শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়।
এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে।
একুশ আমাদের চেতনার প্রতীক, আত্মমর্যাদার প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে।
#SFTVNewsBD