
চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মাসিক এনজিও বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, যেখানে জেলার বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় জেলার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।একই সঙ্গে সমন্বয় সভায় গ্রাম আদালত বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও আলোচ্য ছিল। গ্রাম আদালত হলো তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর ব্যবস্থা, যা সাধারণ মানুষকে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে বিচার সুবিধা প্রদান করে। ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ যেমন জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা, পারিবারিক কলহ, মারামারি, ক্ষতিপূরণ দাবিসহ অন্যান্য ছোটখাটো মামলাগুলি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব।সভায় বলা হয়, গ্রাম আদালতের অন্যতম শক্তি হলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা। এতে উভয় পক্ষের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনা হয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে। তবে গুরুতর অপরাধ, বড় অঙ্কের অর্থ-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, জমির মালিকানা নির্ধারণ বা জটিল পারিবারিক মামলা গ্রাম আদালতের আওতার বাইরে।গ্রাম আদালতে মামলা করার প্রক্রিয়া সহজ; আবেদনকারীকে ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত আবেদন দিতে হয় এবং প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হয়। এরপর চেয়ারম্যান প্রধান হিসেবে গ্রাম আদালত গঠন করে দ্রুত বিচার প্রদান করা হয়। সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা ধার্য করতে পারে।সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নয়ন কুমার রাজবংশী, সরকারি কমিশনার এস.এম আব্দুর রউফ শিবলু, আদ-দ্বীন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আব্দুল হান্নান, ওয়েভ ফাউন্ডেশন উপ-পরিচালক জহির রায়হান, জাগরণী চক্র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ঐশিকা সংস্থা নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আশরাদুল কবীর, পল্লী উন্নয়ন সংস্থা নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনসহ আরও অনেকে।