
চুয়াডাঙ্গা পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সুলভমূল্যে প্রাণিজাত পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের কোট মোড়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্যক্রমে দুধ, ডিম, গরুর মাংস ও সোনালি মুরগি নির্ধারিত সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। রমজান মাসজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রাণিজাত পণ্যের বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। আগামী ২৫ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সুলভমূল্যে এসব সামগ্রী বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে গরুর মাংস ৭০০ টাকা, ডিম প্রতি পিচ সাড়ে ৮ টাকা, সোনাল মুরগী ২৭৫ টাকা ও দুধ প্রতি ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করেই এই সুলভমূল্যে বিক্রয় কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ফলে অনেক সময় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। সে বিষয়টি মাথায় রেখে সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রির একটি বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এ বিষয়টি যেন সর্বস্তরের মানুষ জানতে পারে, সে জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, কৃষি অফিসকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা খামারিদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি ফলের দোকানও এই উদ্যোগের আওতায় যুক্ত করে, যাতে মানুষ ন্যায্যমূল্যে তাজা ফল কিনতে পারেন।
প্রধান অতিথি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোজাকে কেন্দ্র করে যেন কেউ অতিরিক্ত পরিমাণে খাদ্যদ্রব্য মজুদ না করেন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি করা অনুচিত। একইসঙ্গে ভোক্তাদের প্রতিও তিনি অনুরোধ জানান, একবারে এক মাসের বাজার না করার জন্য। অতিরিক্ত কেনাকাটার ফলে বাজারে সাময়িক সংকট সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। সবাই যদি সচেতন থাকেন, তবে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
তিনি প্রাণিসম্পদ বিভাগকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আশা করি রমজানের পুরো মাসজুড়ে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করবেন।
ক্রেতারা জানান, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ বিভাগের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে গরুর মাংস ৭০০ টাকা কেজি, ডিম প্রতি পিস সাড়ে ৮ টাকা, সোনালী মুরগি ২৭৫ টাকা কেজি এবং দুধ ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করায় আমরা খুবই উপকৃত হচ্ছি।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে যেখানে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে এ ধরনের সুলভমূল্যের বিক্রয় কার্যক্রম আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অনেক স্বস্তির। রমজান মাসে পরিবারের চাহিদা কিছুটা বেশি থাকে, তাই এই উদ্যোগ আমাদের সংসার পরিচালনায় বড় সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. শাহাবুদ্দিন, কৃত্রিম প্রজননের উপপরিচালক ড. শামীম উজ জামান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মুস্তাফিজুর রহমানসহ প্রাণিসম্পদ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।