চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় সিভিল সার্জন অফিসে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের বাবুলের ছেলে এবং হাটবোলিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম ওরফে ‘রহিম মাস্টার’।
ভুক্তভোগী তরুণী কুষ্টিয়া জেলার ঝাউদিয়া থানার আস্তানগর গ্রামের জালাল মোল্লার মেয়ে মোছাঃ প্রীতি সিনহা (২৩)।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রহিম মাস্টারের সঙ্গে পরিচয় হয় প্রীতি সিনহার। পরে মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোর মাধ্যমে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রীতিকে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। তিনি দাবি করেন, চাকরি নিশ্চিত করতে মোট পাঁচ লক্ষ টাকা লাগবে। প্রথম ধাপে তিন লক্ষ টাকা দিতে হবে এবং চাকরি হয়ে গেলে বাকি দুই লক্ষ টাকা পরিশোধ করলেই চলবে।
ভুক্তভোগী প্রীতি সিনহা জানান, টাকা দেওয়ার আগে তিনি কোনো নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র বা প্রমাণ চাইলে রহিম মাস্টার তাদের প্রেমের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বিষয়টি কাউকে না জানাতে বলেন এবং তার ওপর আস্থা রাখতে চাপ সৃষ্টি করেন। শিক্ষক পরিচয়ের কারণে তিনি তার কথায় বিশ্বাস করেন।
প্রীতির অভিযোগ, রহিম মাস্টারের একটি এনজিও অফিসে ডেকে নিয়ে তার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা গ্রহণ করা হয়। প্রেমের সম্পর্কের অজুহাতে বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে বারবার মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হয়, যাতে প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ না পায়।
টাকা নেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। চাকরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন সময়ে টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে চাকরি দেওয়া তো দূরের কথা, টাকা ফেরত দিতেও অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
আরও গুরুতর অভিযোগ করে প্রীতি সিনহা বলেন, চাকরি দিতে বিলম্বের অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে বিভিন্ন সময় আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি ধীরে ধীরে তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। এরপরই রহিম মাস্টার সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন,
“চাকরি দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই টাকা আমার সারাজীবনের উপার্জনের একমাত্র সঞ্চয়। একজন শিক্ষক হয়ে এমন প্রতারণা করবেন, তা কল্পনাও করিনি। তিনি আমাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন এবং একই সঙ্গে আমার সর্বস্ব লুটে নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি এখন সম্পূর্ণ নিরুপায়। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং আমার তিন লক্ষ টাকা ফেরত চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আব্দুর রহিমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর মতে, একজন শিক্ষক যদি এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে তা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী তরুণী ইতোমধ্যে আইনগত সহায়তা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
— (চলবে | দ্বিতীয় পর্বে থাকবে প্রশাসনের বক্তব্য ও আইনি অগ্রগতি)










