ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। রাজশাহী বিভাগের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়ে তিনি দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তার এই বিজয়ে লালপুর ও বাগাতিপাড়াজুড়ে বইছে আনন্দ ও প্রত্যাশার সুর।স্থানীয় ভোটার, নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের অভিমত—যোগ্যতা, শিক্ষাগত প্রস্তুতি ও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তিনি মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পাওয়ার মতো নেতৃত্বগুণ রাখেন। তাই তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় বাগাতিপাড়ার সর্বস্তরের মানুষ।ব্যারিস্টার পুতুল নাটোরের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটল-এর কন্যা। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা তিনবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হওয়ার পর দীর্ঘ দেড় যুগ এ আসনে দলটির প্রতিনিধিত্ব ছিল না। বাবার মৃত্যুর পর নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব হিসেবে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশান পুনরুদ্ধার করেন তারই কন্যা।সংসদীয় আসন ৫৮, নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন তিনি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় নাটোরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু (কলস প্রতীক) ৭৩ হাজার ১৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর জেলা জেলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বিএনপি। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই জয় পেয়েছে দলটি। নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল ছাড়াও নাটোর-২ আসনে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৩ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম আনু এবং নাটোর-৪ আসনে আব্দুল আজিজ সরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাটোর-১ আসনে এই বিজয় শুধু একটি আসন পুনরুদ্ধার নয়; এটি নতুন নেতৃত্বের উত্থান এবং নারী রাজনৈতিক অংশগ্রহণের শক্ত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে ব্যারিস্টার পুতুল নাটোরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবেন।










