
৬১ হাজার ২২৭ ভোটে বিজয়ী মাসুদ পারভেজ রাসেল উৎসবমুখর ভোট, উচ্চ উপস্থিতি — আলোচনায় ছিল গণভোটও
নিজস্ব প্রতিবেদক | এম. সনজু আহমেদ
স্টাফ রিপোর্টার | মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ এ চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে (চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা) বেসরকারিভাবে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।
সবগুলো কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে পোস্টাল ভোটসহ প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফকে ৬১ হাজার ২২৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কেন্দ্র থেকে ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে ,মোট কেন্দ্র: ১৮০,ঘোষিত ফলাফল: ১৮০ কেন্দ্র
পোস্টাল ভোটসহ মোট প্রাপ্ত ভোট:
দাড়িপাল্লা — অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল: ২,১৩,৮৯৬
(পোস্টাল ভোট: ২,৭৪১)
ধানের শীষ — শরীফুজ্জামান শরীফ: ১,৫২,৬৫৯ (পোস্টাল ভোট: ৮১১) মোট ব্যবধান: ৬১,২২৭ ভোট
দলীয় অফিস ও প্রাথমিক বেসরকারি সূত্রে কেন্দ্রভিত্তিক আরেক হিসাবে দেখা যায়—
মাসুদ পারভেজ রাসেল: ২,১১,১৫৫ ভোট
শরীফুজ্জামান শরীফ: ১,৫১,৪৪৮ ভোট
তবে পরবর্তীতে পোস্টাল ভোট যুক্ত হলে ব্যবধান আরও বাড়ে।
১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও আলমডাঙ্গা পৌরসভাসহ মোট ২১টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার ১৮০টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
মোট ভোটার: ৫,০৬,৩২৪
পুরুষ: ২,৪৯,৭৩৬
মহিলা: ২,৫৬,৫৮১
তৃতীয় লিঙ্গ: ৭
সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছিল উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন, তরুণ ভোটারদের উচ্ছ্বাস এবং প্রবীণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
একজন প্রবীণ ভোটার বলেন,
“১৭ বছর পর নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে মনে হচ্ছে ঈদের দিনের মতো আনন্দ।”
একজন নারী ভোটার জানান,
“সকালেই এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।”
জেলা প্রশাসনের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান,
“সমগ্র আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন,
“সব কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী বেসরকারিভাবে দাড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে।”
অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন,
“এটি জনগণের বিজয়। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি সকলের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে চাই।”
তিনি ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। এবারের নির্বাচনের বিশেষ দিক ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হয়। তবে অনেক ভোটার শুরুতে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের তাৎপর্য বুঝতে না পেরে কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েন। পরে নির্বাচন কমিশন ও সরকারি প্রচারণায় বিষয়টি পরিষ্কার হলে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ে। গণভোটের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন সময় প্রচারণা চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে শুরু হয় গণনা। চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই নিরঙ্কুশ বিজয় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন— তৃণমূল সাংগঠনিক শক্তি উচ্চ ভোটার উপস্থিতি নারী ভোটারের সক্রিয়তা দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট
—এসবই ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ এ চুয়াডাঙ্গা–১ আসনের নির্বাচন ছিল অংশগ্রহণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।