
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে সম্পন্ন হয়েছে সকল প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো উপস্থিতি, পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,০৬,৩২৪ জন। এর মধ্যে—
মোট পুরুষ ভোটার: ২,৪৯,৭৩৬ জন
মোট মহিলা ভোটার: ২,৫৬,৫৮১ জন
তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) ভোটার: ৭ জন
নারী ভোটার সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি হওয়ায় ভোটের সমীকরণে নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ আসনে মোট ১৮০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী—
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ — ধানের শীষ প্রতীক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল — দাঁড়িপাল্লা প্রতীক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোঃ জহুরুল ইসলাম — পাখা প্রতীক
তিন প্রার্থীই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছেন।

নির্বাচন ঘিরে প্রশাসন নিচ্ছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া— সেনাবাহিনী
বিজিবি ও র্যাবের টহল জোরদার
স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল কোর্ট
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো ধরনের সহিংসতা, জালভোট বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে সাংগঠনিক তৎপরতা চালালেও নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ মেনে সব প্রচারণা বন্ধ করা হয়েছে।
সাধারণ ভোটাররা চান উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। প্রথমবারের ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে বাড়তি উৎসাহ।
সবমিলিয়ে ৫ লক্ষাধিক ভোটার, ১৮০ কেন্দ্র, তিন প্রার্থীর লড়াই—চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে জমে উঠেছে ব্যালটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এখন অপেক্ষা—রাত পোহালেই শুরু হবে ভোটযুদ্ধ, আর গণরায়েই নির্ধারিত হবে বিজয়ের হাসি।