
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোঃ আব্দুল মালেক (৭৫) এর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।আজ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে সন্তোষপুর (কোরানীপাড়া) এলাকার মোঃ ফজলুল হকের দোকানের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় ভূরুঙ্গামারী থেকে ছেড়ে আসা তালুকদার পরিবহন গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ব ১২২৩৮৩) তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি দ্রুত কুড়িগ্রামের দিকে চলে যায়।পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মোঃ আব্দুল মালেককে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার পথে নাগেশ্বরী মডেল মসজিদের সামনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ওই সড়কে দীর্ঘ সময় যানজটের সৃষ্টি হয়।খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানার এসআই নিরঞ্জন রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মোঃ সুজাউদ্দৌলা (সুজা মেম্বার) ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।কিছুক্ষণ পর তালুকদার পরিবহনের কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হয়।পরবর্তীতে সকলের সম্মতিতে নিহত মোঃ আব্দুল মালেকের পরিবারের হাতে তালুকদার পরিবহনের পক্ষ থেকে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।নিহতের ভাগিনা মোঃ কায়সার আলী জানান, আমার মামা একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় আমরা পরিবারসহ ভেঙে পড়েছি। আমরা চাই ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে।এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মোঃ সুজাউদ্দৌলা বলেন, এলাকাবাসী ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আমরা সবাই চাই রাস্তায় নিরাপত্তা আরও জোরদার হোক।অপরদিকে, নাগেশ্বরী থানার এসআই নিরঞ্জন রায় বলেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সকল পক্ষকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।