
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান শরীফের ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পিটুর সঞ্চালনায় এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান বুলার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান শরীফ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিষদ কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম নজু এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম মনি।সভায় বক্তব্য রাখেন শরিফুজ্জামান শরীফের বড় ভাই শাহীদুজ্জামান টরিক (সিআইপি)। তিনি বলেন, বর্তমানে ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা চলছে। কিন্তু আমরা সবাই জানি ভোট ফেসবুকে হয় না। ভোট হয় মাঠে, ভোট হয় কেন্দ্রে, ভোট হয় মহল্লায় এবং ভোট হয় মানুষের ঘরে ঘরে।তিনি আরও বলেন, নতুন ভোটার ও তরুণ সমাজের প্রতি আমার আহ্বান আপনারা আপনাদের আশপাশের বয়স্কদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামের ভূমিকা কী ছিল। যে বাংলা ভাষায় আমরা কথা বলছি এবং যে লাল-সবুজের পতাকা আমরা ধারণ করছি তার পেছনে রয়েছে অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ। তিনি সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান শরীফকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আজ ৯ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ প্রচারণার শেষ দিন। গত কয়েক মাস ধরে আমি আপনাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য আমি আজীবন ঋণী।তিনি বলেন, আমি শুধু ভোট চাইনি, আপনাদের দুঃখ-কষ্ট, সম্ভাবনা ও স্বপ্নের কথা শুনেছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই দেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করে নারীদের ক্ষমতায়নের পথ সুগম করেছেন।আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা দিয়েছেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে এবং স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।তিনি যুবসমাজের কর্মসংস্থান, নারীদের হস্তশিল্প ও পশুপালনে সহায়তা, চুয়াডাঙ্গায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।আমি এই চুয়াডাঙ্গার সন্তান। আমাকে নির্বাচিত করলে চুয়াডাঙ্গাকে মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব। সরকারি চাকরিতে ঘুষ ছাড়াই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সরকারি বরাদ্দের হিসাব জনসম্মুখে শ্বেতপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে এবং প্রতি চার মাসে গণশুনানির মাধ্যমে জনগণের সমস্যা সরাসরি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমি আপনাদের শাসক হতে নয়, সেবক হতে চাই। অতীতে কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা চাইছি। আসুন, সব ভেদাভেদ ভুলে ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করি।সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তারা চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান শরীফকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার গঠনের মাধ্যমেই দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।নির্বাচনী সভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।