আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা–১ (আলমডাঙ্গা–চুয়াডাঙ্গা) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের নির্বাচনী জনসভা গণমানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সোমবার বিকাল ৩টায় আলমডাঙ্গা শহরের ঐতিহাসিক এটিম মাঠে আয়োজিত এ জনসভা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের এক বিশাল মঞ্চে রূপ নেয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন,
চুয়াডাঙ্গা–১ আসন দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন— নির্বাচিত হলে এ আসনে কোনো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা বৈষম্যের স্থান থাকবে না।
তিনি বলেন, “আমি রাজনীতি করি গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এই এলাকার কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, তরুণ সমাজ— সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। কৃষিনির্ভর এই জেলায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য, সেচ, বীজ ও সার সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলে একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা গড়াই আমার অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সকল রাজনৈতিক শক্তি ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটেই পরিবর্তনের সূচনা হবে। তার বক্তব্যের শেষ মুহূর্তে আবেগঘন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সাংগঠনিক দৃঢ়তার বার্তা তুলে ধরলে হাজারো মানুষের জনসভা মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে মনোযোগ সহকারে তা শোনে— যা উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি হাজার হাজার নারী-পুরুষ, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। মাঠজুড়ে ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ উপস্থিতি, দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর পরিবেশ। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার সূচনা হয়। সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমীর শফিউল আলম বকুল। তিনি সংগঠনকে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জনসভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, গণমানুষের অধিকার, ভোটের মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এ জোট ঐক্যবদ্ধ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন,
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এহসান,
চুয়াডাঙ্গা–১ আসনের নির্বাচনী পরিচালক ও জেলা যুব বিভাগের পরিচালক নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু,
জামায়াতে ইসলামী সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসাইন,
জেলা শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরোক, সাবেক জেলা আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, খেলাফত মজলিসের খুলনা বিভাগীয় সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জামায়াতের জেলা ইউনিট সদস্য অ্যাডভোকেট মুসলিম উদ্দিন, আলমডাঙ্গা পৌর শাখার আমীর মাহের আলী, সেক্রেটারি মসলেম উদ্দিন, গাংনী-আসমানখালী আমীর আব্বাস উদ্দিন, শহীদ মোস্তাফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে। জনসভা চলাকালে আসরের আজান হলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে নামাজ আদায় করেন। এতে ধর্মীয় ও শৃঙ্খলাবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। জনসভা শেষে একটি বিশাল নির্বাচনী মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আলমডাঙ্গা এটিম মাঠ থেকে শুরু হয়ে স্টেশন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে আলিফ উদ্দিন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামী আলমডাঙ্গা উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা। সারসংক্ষেপে, আলমডাঙ্গার এ জনসভা ছিল চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক অবস্থান ও গণমানুষের সম্পৃক্ততার এক বড় প্রদর্শন। প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন উন্নত চুয়াডাঙ্গা গড়ার অঙ্গীকারে উপস্থিত জনতার মাঝে নির্বাচনী সাড়া তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










