চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণভাবে র‍্যালিটি অনুষ্ঠিত হয়।র‍্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ আমিরুল ইসলাম।সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট আসাদুল্লাহ।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ সাগর আহমেদ।র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশেষ অতিথি বলেন,আজকের এই গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে যে শিশুর জন্ম হয়েছিল, আজ সে আর কেবল যুবক নয়, সে পরিণত ও পূর্ণাঙ্গ যুবকে রূপ নিয়েছে।১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বারবার দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে। অসংখ্য ছাত্রশিবির কর্মী শহীদ হয়েছেন। কিন্তু এত নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র করেও এই সংগঠনকে শেষ করা যায়নি, ভবিষ্যতেও কখনো শেষ করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে গণজোয়ারের সূচনা হয়েছে, তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে নতুন ইতিহাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির পর এর ফলাফল দেশবাসী নিজের চোখেই প্রত্যক্ষ করবে।র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে, মাত্র ছয়জন মেধাবী ও আদর্শবান ছাত্রের হাত ধরে। শুরু থেকেই এই কাফেলার লক্ষ্য ছিল দেশকে আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির কবল থেকে মুক্ত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা।বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কোনো রাজনৈতিক দলকে তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে না। ছাত্রশিবিরের প্রকৃত প্রতিপক্ষ হলো চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও মাদক। যারা যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিতে চায়, তারাই আমাদের আসল প্রতিপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু কেউই এই আদর্শিক আন্দোলনকে থামাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। ছাত্রশিবিরকে মোকাবিলা করতে হলে আদর্শের মাধ্যমেই করতে হবে।তিনি যুব সমাজকে মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে আদর্শবান, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। দেশ ও জাতির কল্যাণে ছাত্রসমাজকে নৈতিকতা, সততা ও ইসলামী মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করাই ছাত্রশিবিরের মূল লক্ষ্য।বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির শান্ত, মহসিন, এমদাদুল্লাহ জামেন, অফিস সম্পাদক হাফেজ মাসুম বিল্লাহ, অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী, সাহিত্য সম্পাদক আবু রায়হান, দাওয়াত সম্পাদক পারভেজ আলমসহ জেলা শাখার অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031