আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ-পিরিচ মার্কা) তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ৫ ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১১ ঘটিকায় কুলাউড়াস্থ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই ইশতেহার পাঠ করেন।
’ইনসাফ, সুশাসন ও বৈষম্যমুক্ত উন্নয়ন’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে তিনি কুলাউড়ার সার্বিক অগ্রগতির জন্য নিম্নলিখিত ৩৮ দফা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন:
সুশাসন ও জননিরাপত্তা:
১. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. পুলিশি হয়রানি ও মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ।
৩. প্রতিটি সরকারি দপ্তরে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সেবা সহজ করা।
৪. সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন।
৫. সংসদ সদস্যের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি ৩ মাস অন্তর ‘এমপি-জনতা সংলাপ’ আয়োজন।
অবকাঠামো ও যোগাযোগ উন্নয়ন:
৬. কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনকে আধুনিক ও জনবান্ধব করা।
৭. প্রতিটি ইউনিয়নে টেকসই গ্রামীণ অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ।
৮. জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার ও নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণ।
৯. পৌর শহরের যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক বা সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক পরিকল্পনা।
১০. কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোকে মূল সড়কের সাথে যুক্ত করা।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা:
১১. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ।
১২. ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ২৪/৭ নিরাপদ প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সেবা নিশ্চিত করা।
১৩. গরিব রোগীদের জন্য ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও জরুরি ঔষধের ব্যবস্থা করা।
১৪. আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা সরকারি পর্যায়ে সহজলভ্য করা।
কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা:
১৫. প্রকৃত কৃষকদের সরকারি ভর্তুকি, সার ও উন্নত বীজ নিশ্চিত করা।
১৬. বিএডিসির সেচ প্রকল্পের আওতা বাড়ানো ও সেচ সংকট দূর করা।
১৭. মনু ও ফানাই নদীর নাব্যতা ফেরাতে খনন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ।
১৮. হাওর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান:
১৯. উপজেলায় কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
২০. কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে নতুন কলেজ ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা।
২১. বেকার তরুণদের জন্য বিশেষ ঋণ ও আত্মকর্মসংস্থান তহবিল গঠন।
২২. প্রতিটি ইউনিয়নে পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র স্থাপন।
প্রবাসী ও শ্রমিক কল্যাণ:
২৩. প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সংসদে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা।
২৪. প্রবাসীদের পরিবারের নিরাপত্তায় বিশেষ সংসদীয় সেল গঠন।
২৫. চা-শ্রমিকদের বসতভিটার অধিকার ও মজুরি বৃদ্ধিতে আইনি সহায়তা প্রদান।
২৬. চা-বাগান এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প।
ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়ন:
২৭. মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
২৮. মন্দির ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২৯. খাসিয়া ও মণিপুরীসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও অধিকার রক্ষা।
৩০. দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ও ফিতরা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা।
অন্যান্য অগ্রাধিকার:
৩১. দুর্নীতিমুক্ত ও সচ্ছল পৌরসভা গড়ে তোলায় সহযোগিতা।
৩২. যুব সমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে স্টেডিয়াম ও খেলার মাঠের উন্নয়ন।
৩৩. নারীদের জন্য কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি।
৩৪. বয়স্ক ও বিধবা ভাতা বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
৩৫. পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
৩৬. আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘স্মার্ট কুলাউড়া’ বিনির্মাণ।
৩৭. সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগের জন্য ‘Connect Your MP’ অনলাইন পোর্টাল চালু।
৩৮. দলমত নির্বিশেষে কুলাউড়ার উন্নয়নে একটি ‘সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ বলেন, “এই ৩৮ দফা কেবল কাগজ কলমের লেখা নয়, এটি আমার ও কুলাউড়াবাসীর প্রাণের দাবি। আগামী নির্বাচনে ‘কাপ-পিরিচ’ মার্কায় আপনাদের ভোট পেলে এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে আমি আমার সর্বোচ্চ বিলিয়ে দেব।”









