বাগাতিপাড়ায় রাজনৈতিক সহিংসতা: আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের হামলায় বিএনপি কর্মীসহ তিনজন গুরুতর আহত, ৯৯৯-এ ফোন করেও মেলেনি তাৎক্ষণিক সহায়তা

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় বিএনপির দুই কর্মী ও এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং পরে জামায়াত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উগ্র আচরণ ও হামলার শিকার হন তারা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।আহতরা হলেন- বাগাতিপাড়া উপজেলার পূর্ব যোগীপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলাম, নাঈম হোসেন এবং নজরুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা। তিনজনই বর্তমানে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নাজমুল ইসলামের নিজ বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে নাজমুল ইসলাম, নাঈম হোসেন ও মর্জিনাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতরভাবে আহত করে।আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈম হোসেনের কানে ও মাথায় সাতটি সেলাই দেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের শারীরিক অবস্থা প্রথমে আশঙ্কাজনক ছিল, বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন- বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহীম (পিতা: আছাব আলী সরকার), শরিফুল ইসলাম সুমন (পিতা: আছাব আলী সরকার), আবির (পিতা: মনিরুল ইসলাম বিপ্লব), মুন্না (পিতা: মজনু)সহ আরও কয়েকজন। তারা পূর্ব কুয়ালুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।অভিযোগ রয়েছে,
অভিযুক্তদের মধ্যে মোঃ ইব্রাহিম আলী সরকার (৫২) লালপুর–বাগাতিপাড়া–নাটোর-১ আসনের আওয়ামী লীগ ও পরে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত।এ বিষয়ে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আমার দলের সঙ্গে জড়িত কিনা, সেটিও নিশ্চিত নই।”আহতদের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, হামলার সময় তারা প্রাণ বাঁচাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো কার্যকর পুলিশি সহায়তা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। পরে তারা বাগাতিপাড়া থানায় গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান।এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মনজুরুল আলম বলেন, “ভুক্তভোগীরা থানায় যোগাযোগ করেছেন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ খবর