ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-০১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক একটি নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন সরকারি কলেজের বিপরীতে অবস্থিত মুক্তমঞ্চে সুজনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান। এতে চুয়াডাঙ্গা-০১ আসনের বিভিন্ন প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার, পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ, জামাত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজী।চুয়াডাঙ্গা–১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ বলেনচুয়াডাঙ্গা ১ আসন থেকে যদি আমি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রের সকল সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করব। আমাদের অঙ্গীকার প্রশাসনকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করা। যদি আমরা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে না পারি, তাহলে শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, সারা বাংলাদেশের উন্নয়নও সম্ভব নয়। আজ রাষ্ট্র উন্নয়নের পথে যে দুর্নীতি, তা তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে রাজনীতিবিদরা যেমন প্রতারিত হন, তেমনি যারা নেতৃত্ব দেন তারাও প্রতারিত হন।ই কারণেই রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে কাঠামো, নিয়ম ও আইন তৈরি হয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তা করতে পারলে দেখবেন, চুয়াডাঙ্গার প্রায় ৯০ শতাংশ সমস্যাই আপনাআপনি সমাধান হয়ে যাবে।আজ আমরা যুবসমাজ, কৃষক ও ছাত্রদের কথা বলি; কিন্তু খুব কমই আলোচনা করি একজন ছাত্র কীভাবে সুশিক্ষিত হবে, আমাদের সন্তান কীভাবে একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠবে। এই বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই আমরা কথা বলি, কিন্তু পরিকল্পনা করি না।আমি চাই আপনি আপনার সন্তানকে যে স্কুলে দিয়েছেন, সেই স্কুলের খোঁজ রাখুন। আপনার সন্তান ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কি না এ বিষয়ে সচেতন থাকুন। একটি সুস্থ সমাজ গঠনে অভিভাবকদেরই সবার আগে ভূমিকা নিতে হবে।আমরা মাদক ও অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে চাই। এসব আসক্তি থেকে সরে আসতে হলে খেলাধুলাকে পেশা ও অভ্যাস দুটো হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে। তাই আমরা ক্লাস ফোর থেকেই ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। প্রত্যেকে যে খেলাটি পছন্দ করে, সেই অনুযায়ী স্কুলে দক্ষ কোচ নিয়োগ দিতে হবে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী খেলার সুযোগচুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেনআগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন আমরা চাই সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হোক, যাতে জনগণ তাদের প্রকৃত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।আমাদের প্রার্থীদের মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে আমরা চাই আমাদের সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে।ইতোমধ্যেই আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি নির্বাচনী প্রচারণায় যেন সবাই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আচরণবিধি মেনে চলে। কেউ যেন কারও প্রতি বিদ্বেষ, দণ্ড-বিবাদ কিংবা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে।শান্তিপূর্ণ ও শালীন আচরণের মাধ্যমেই আমরা নির্বাচনকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই এটাই আমাদের স্পষ্ট অবস্থান।পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিও আমাদের জোরালো আহ্বান তারা যেন আইনের প্রশ্নে পূর্ণ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার মাধ্যমেই একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব।র্বোপরি, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখি। বাংলাদেশের মানুষ যেন প্রকৃত স্বাধীনতা, প্রকৃত মানবিক মর্যাদা এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার পায় সে লক্ষ্যেই আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।চুয়াডাঙ্গা একটি পিছিয়ে পড়া জেলা এটা আমরা সবাই জানি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের জেলায় যে অনুদান ও বরাদ্দ আসে, তা অনেক সময় দেশের তৃতীয় সারির জেলার কাতারেই সীমাবদ্ধ থাকে। আমরা চাই এই অবস্থার পরিবর্তন। চুয়াডাঙ্গাকে একটি উন্নত, আধুনিক ও অগ্রসর জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং বরাদ্দ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে নিয়ে যেতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করব।ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজী বলেন,আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি আগামী ১২ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন হবে উৎসবমুখর, প্রাণবন্ত, জনবান্ধব, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।চুয়াডাঙ্গা–১ আসন থেকে তিনজন মনোনীত প্রার্থীর পরস্পরের সমন্বয়ে একসাথে কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে দলীয় সকল নেতাকর্মীদেরও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।চুয়াডাঙ্গা–১ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে রাষ্ট্রের কল্যাণে প্রয়োজনীয় মৌলিক কাজগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবো। পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এবং জুলাই সনদের প্রতি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার আমরা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব।চুয়াডাঙ্গার তারুণ্যের মধ্যে বেকারত্বজনিত যে হতাশা বিরাজ করছে, তা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে হতাশা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি একটি উন্নত ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা রাখছি।চুয়াডাঙ্গা জেলায় যে সকল উন্নয়ন ঘারতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে পূরণ করাই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদার ও ভোটারদের সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করা হয়েছে। এতে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নাগরিকরা এমন আয়োজনকে সময়োপযোগী ও গণতন্ত্রচর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন।









