অধ্যাপক আবুল হাশেমের জানাজার নামাজ তিন দফায় অনুষ্ঠিত, প্রতিটি জানাজায় মানুষের ঢল,শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত চোখে প্রিয় নেতাকে বিদায় জানান দলীয় নেতাকর্মী, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হঠাৎ নিভে গেল প্রাণপ্রদীপ: কুষ্টিয়া জামায়াত আমির অধ্যাপক আবুল হাশেমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) আর নেই। দ্বীনের দাওয়াত ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই মঞ্চে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাঁর মৃত্যুতে কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে শোকের আবহ নেমে এসেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের একতারা মোড় এলাকায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন অধ্যাপক আবুল হাশেম। বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। দ্রুত তাঁকে কুষ্টিয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়েই জীবনাবসান ঘটে এই প্রবীণ নেতার।
মরহুমের আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের চোখে মুখে ছিল গভীর বেদনা। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
তিন দফা জানাজায় মানুষের ঢল
অধ্যাপক আবুল হাশেমের জানাজার নামাজ তিন দফায় অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার রাতেই ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং চাঁদাগাড়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জানাজা।
পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর উপজেলা ফুটবল মাঠে তৃতীয় জানাজার নামাজ শেষে তাঁকে ওয়াপদা (ওয়াবদা) কবরস্থানে দাফন করা হয়।
প্রতিটি জানাজায় মানুষের ঢল নামে। শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত চোখে প্রিয় নেতাকে বিদায় জানান দলীয় নেতাকর্মী, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা
জানাজার নামাজে জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জেলা বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও জানাজায় উপস্থিত থেকে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবক
অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন ছাত্রদের কাছে স্নেহশীল অভিভাবক এবং সহকর্মীদের কাছে আদর্শ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি দাওয়াহ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শোকবার্তা
অধ্যাপক আবুল হাশেমের মৃত্যুতে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তারা বলেন, অধ্যাপক আবুল হাশেম ছিলেন নিষ্ঠাবান, ত্যাগী ও আদর্শবান একজন নেতা। তাঁর মৃত্যু জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
নেতারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।










