
পঞ্চগড়ে অবৈধ ভাবে সার ক্রয় করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারে ছয় মাসের সাজা হয়েছে মমিন মিয়া (২৭) নামে এক খুচরা ব্যবসায়ীর। একই সময় ডিলারকে সতর্ক করে জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকায় মের্সাস সৌরভ বীজ ভাণ্ডারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা।কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মমিন মিয়ার বাড়ি জেলার আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের জুগিকাটা এলাকায়। তিনি ওই এলাকার সাবিরুল ইসলামের ছেলে। পরে তাকে সদর থানা পুলিশের মাধ্যেমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মের্সাস সৌরভ বীজ ভাণ্ডারে কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এক খুচরা সার বিক্রেতার কাছে বিক্রি করছিলেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার ক্রেতা মমিন মিয়াকে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১২(১) লঙ্ঘনের অপরাধে ১২(৩) ধারায় ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।একই আইনে মের্সাস সৌরভ বীজ ভাণ্ডারের মালিক ও ডিলার কামরুন নাহারকে অবৈধ উপায়ে সার বিক্রির অপরাধে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়। পরে সার ডিলারকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী, সদর উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তৈয়ব আলীসহ সদর থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দের সার নিয়ে কেউ কোনো ধরনের অনিয়ম করলে আমরা ছাড় দেব না। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। যদি ভবিষ্যতে তিনি এ ধরনের কাজ করেন তাহলে লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি মমিন মিয়াকে বিকেলে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।