মণিরামপুর উপজেলার মধুপুর বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও মেধা তালিকা পরিবর্তনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোহসীন হোসেন এবং এক বহিরাগত শিক্ষকের দিকে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক পরীক্ষায় স্পষ্ট ব্যবধানে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন শিক্ষার্থী ইতু পাল। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার আগে কৌশলে তাকে মেধা তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ছাত্রী সাইমা ইসলামকে ১ নম্বর রোল ও স্কুল সেরা ঘোষণা করা হয়। সূত্র জানায়, ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পরও পরীক্ষার ফল ঘোষণার আগমুহূর্তে প্রধান শিক্ষক অন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মোঃ মোস্তাক হোসেনকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ওই ছাত্রীর উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করে নম্বর বাড়ানো হয়, যাতে তাকে ইতু পালের উপরে দেখানো যায়। ইতু পালের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার সন্তান নিজের মেধা ও পরিশ্রমে প্রথম হয়েছিল। যদি শিক্ষকরা টাকার বিনিময়ে বা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন করেন, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।” স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই মেধা তালিকা রদবদল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও অনৈতিক। ন্যায্য নম্বর থাকা সত্ত্বেও ইতু পালকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ইতু পালের প্রাপ্য মেধাক্রম ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোচিং করানো নিষিদ্ধ থাকলেও জয়পুর মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ মোস্তাক হোসেন নিজের বাড়ির পাশে কোচিং সেন্টার খুলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে পড়ান। শুধু তাই নয়, তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার ও খবরদারিও করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মোহসীন হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করলেও, অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক এনে উত্তরপত্র পুনরায় দেখানোর যৌক্তিকতা সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, ঘটনার বিস্তারিত শুনেছেন এবং বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।










