আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনী মাঠে থাকছেন ২৪ জন প্রার্থী। যাচাইয়ে অনিয়ম ও তথ্যগত ত্রুটির কারণে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। রবিবার (যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন) ভোলা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান জানান, চার আসনে জমা পড়া মোট ৩১টি মনোনয়নপত্র যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্রে আয়কর তথ্যের গড়মিল, এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় অসঙ্গতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ত্রুটির কারণেই এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। কোন আসনে কারা বাদ পড়লেনভোলা-১ (ভোলা সদর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আকবর হোসেনের হলফনামা ও আয়কর বিবরণীর মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিজুল হোসেনের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটার তালিকায় ত্রুটি ধরা পড়ে।ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল্যাহ খোকন ও তাছলিমা বেগমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের দাখিলকৃত ভোটার সম্মতিপত্র যাচাইয়ে সঠিকতা পাওয়া যায়নি।ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহর দাখিলকৃত ভোটার স্বাক্ষর ও তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিনের সম্পদ বিবরণী ও আয়কর রিটার্নে গড়মিল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সমর্থক ভোটার তালিকায় ত্রুটি থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।চার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন যারা মনোনয়ন যাচাই শেষে ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসনে ৭ জন করে, ভোলা-৩ ও ভোলা-৪ আসনে ৫ জন করে প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। এসব আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।আপিলের সুযোগ থাকছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তাদের প্রার্থিতা পুনর্বহালের সুযোগ পাবেন। আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল দাখিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। এরপর ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।মনোনয়ন যাচাই শেষে ভোলার চার আসনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা এখন স্পষ্ট রূপ পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।










