
কত ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে আবারও আমাদের মাঝে উঁকি দিলো নতুন বছর। বিদায়ী ক্ষণে কিছু হতাশা থাকলেও সামনে রয়েছে নতুন স্বপ্ন বুননের তীব্র আকাঙ্খা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়
❝ নব আনন্দে জাগো আজি নবরবিকিরণে ❞
নতুন বছরের আগমনকে ঘিরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়েই আজকের আয়োজন।
মুনতাকা মেহজাবিন
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জীবন সময়ের সাথে চলমান। সময় বহমান শরতের আকাশে উড়ে যাওয়া মেঘের মতো কিংবা বয়ে চলা স্রোতস্বিনীর মতো। সময় ফুরিয়ে যায় চোখের পলকেই।
দেখতে দেখতে দিন যায়, সপ্তাহ যায়, মাস গড়ানোর সম্মিলনে নিমিষেই বছর ফুরিয়ে যায়। পেরিয়ে যাওয়া বছরের প্রতিটি দিন-ই নিত্যনতুন গল্প বুনে জীবনের রঙিন অথবা বিবর্ণ মুহূর্তের। কিছুটা হতাশা, গ্লানি, কিছুটা আনন্দ, পূর্ণতা, অথবা অপূর্ণতার গল্প।
নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সুস্থতা আর অফুরন্ত আনন্দের শুভ বার্তা। প্রতিটি সকাল শুরু হোক নতুন আশায়। জীবনের পথচলায় যত চাওয়া-পাওয়া, যত প্রত্যাশা সবই ধীরে ধীরে হোক প্রাপ্তিতে রূপান্তরিত। অপূর্ণ থেকে যাওয়া স্বপ্নগুলো পাক বাস্তবতার স্পর্শ, সাহস আর অধ্যবসায়ের হাত ধরে স্বপ্নেরা পৌঁছে যাক কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।
মুইন উদ্দিন
শিক্ষা প্রশাসন বিভাগ
আরও একটি বছর পেরিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি নতুন বছরের দোরগোড়ায়। নতুন বছর শুধু সময়ের হিসাব বদলায় না, বদলায় আমাদের প্রত্যাশা আর দায়িত্ববোধের দৃষ্টিভঙ্গি। একটি সুস্থ দেশ এই প্রত্যাশা আজ আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের দাবি। আমি চাই একটি রাহাজানি ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ। মানুষের জীবন যখন নিরাপদ থাকে না, তখন উন্নয়ন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। রাস্তায় চলাচল, কর্মস্থলে যাওয়া কিংবা সন্তানকে স্কুলে পাঠানো সব ক্ষেত্রেই নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে এসবের পাশাপাশি নতুন বছরে আমি মনে করি, আমাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হওয়া উচিত শিক্ষায়। একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষিত প্রজন্মের ওপর। মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এসব ছাড়া উন্নত দেশ গড়া সম্ভব নয়। শিক্ষা যেন কেবল সনদ অর্জনের মাধ্যম না হয়ে, মানুষ গড়ার কারখানা হয় এই প্রত্যাশাই আজ সবচেয়ে জরুরি।
উম্মে কুলসুম মিতা
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ
নতুন বছর সবসময়ই একটা বিশেষ সময় - যেন একটা নতুন পাতা উল্টানোর সুযোগ। এই সময়টা আমাদের থমকে দাঁড়িয়ে ভাবতে শেখায়।
নতুন বছরের ভাবনায় আসলে দুটো দিক থাকে। এক দিকে আছে গত বছরের অভিজ্ঞতা - কী শিখলাম, কোথায় ভুল হলো, কোন মুহূর্তগুলো মনে রাখার মতো। অন্য দিকে আছে সামনের দিকে তাকানো - স্বপ্ন, পরিকল্পনা, সম্ভাবনা। আমার মনে হয়, নতুন বছরের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটা আমাদের আশাবাদী করে তোলে। চ্যালেঞ্জ থাকবে, কিন্তু নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে। গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখা এবং নিজের প্রতি, অন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা।
প্রিতম দে
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ
নতুন বছর কেবল মাত্র একটি সংখ্যার পরিবর্তন হলেও আমার প্রত্যাশা সবসময় একই। সেটা হলো তিন টি শব্দের " শান্তি"!! রোগ অনেকসময় সংক্রামক হলেও আমি চাই, এই "শান্তি" শব্দটাও সংক্রামক হয়ে ছড়িয়ে পরুক পুরো জাতি তথা বিশ্বের প্রতিটি প্রাণীর অন্তরে। এই " শান্তি" আসুক আমার বাংলার প্রতিটি মানুষের অন্তরে, শান্ত হয়ে নিভে যাক ক্রোধ,ঘৃণা, অহংকার তথা হানাহানি আর সংহিতা।। আর না ঝরুক ফিলিস্তিনে এক ফোঁটা রক্ত।। আর না হোক পশ্চিমের যুদ্ধ।। "স্নায়ু যুদ্ধ"না হয়ে হোক ভালোবাসার যুদ্ধ।।
সদ্য "স্নাতক পাশ" করা মানুষটাকে যেনো পরিবারে চিন্তা মাথায় নিয়ে বেকার অবস্থায় ঘুরতে না হয়। দেশে সংহিতা দেখে যেনো আর বিদেশে নিরাপদ জীবন খুঁজতে যেতে না হয়। অন্যদিকে নিম্নমধ্যবিত্তের যেনো চক্ষুলজ্জার ভয়ে সাহায্যের অভাবে না খেয়ে ঘুমাতে যেতে হয়।
তাওফিক মারুফ
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ
নতুন বছর আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়, আবার গত বছরের ব্যর্থতা ও অর্জনকে মূল্যায়নের সুযোগও এনে দেয়৷ রাজনৈতিকভাবে নতুন বছরে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো সহনশীলতা ও দায়বদ্ধ রাজনীতি। ক্ষমতার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।নতুন বছর হোক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের বছর। উৎপাদনশীল খাত ও উদ্যোক্তাবান্ধব নীতি জোরদার হলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে।
সামাজিকভাবে নতুন বছরে প্রত্যাশা বৈষম্যহীন সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ। সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো উন্নয়নই পূর্ণতা পায় না।