
মেহেরপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ, বুধবার ২৪ ডিসেম্বর-২০২৫ রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেহেরপুর-১ আসনটি বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এখানে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখকে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি একদিকে যেমন তৃণমূলের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্দোলন ও সাংগঠনিক শক্তিকে নির্বাচনী রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন,
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থা, পূর্ববর্তী নির্বাচনী ফলাফল, স্থানীয় জনমত এবং নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা-এই সবকিছু বিবেচনা করেই মাসুদ অরুণকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছেন, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় তার রাজনৈতিক পরিচিতি ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিএনপির জন্য একটি বড় সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছেন।
মনোনয়নের খবর প্রকাশের পর মেহেরপুর জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে দলীয় নেতারা নির্বাচনী প্রস্তুতির ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখছেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়াকে মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন তারা।
মনোনয়নপত্র গ্রহণের পর মাসুদ অরুণ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বিএনপির চলমান রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, গণতন্ত্র-ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি মূলত দলীয় আন্দোলনের বার্তাকেই নির্বাচনী ইশতেহারের কেন্দ্রে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয়! বরং জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিএনপির অবস্থান জানান দেওয়ার অংশ।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা মনে করছেন, চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার ফলে দলীয় বিভ্রান্তি কমবে এবং এখন থেকে সব শক্তি একক প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে, তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ, ভোটার পুনঃসংযোগ এবং সাংগঠনিক কাঠামো সক্রিয় করার কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপির এই মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে, ফলে আগামী দিনে এই আসনটি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মেহেরপুর-১ আসনটি শুধু আঞ্চলিক নয়! বরং জাতীয় রাজনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। এখানে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশের জন্ম দিয়েছেন।