দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মহাকাশ বিজ্ঞানী নাটোর জেলার বাগাতিপাড়ার অধ্যাপক ড. মিয়াহ মুহাম্মদ আদেল। তিনি গত ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন এবং বর্তমানে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের ভিতরভাগ গ্রামে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। আগামী ২৮ ডিসেম্বর তার পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কথা রয়েছে।
ড. মিয়াহ মুহাম্মদ আদেল ভিতরভাগ গ্রামের মরহুম মহসিন হাজী প্রামাণিকের সন্তান। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের University of Arkansas at Pine Bluff (UAPB)-এ পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিজ্ঞান ও জলসম্পদ বিষয়ে তার গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে স্বীকৃত।
দীর্ঘদিন পর নিজ এলাকায় তার আগমনে আত্মীয়স্বজন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণা বিষয়ে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন।
ড. আদেল একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-এর Here to Observe (H2O) কর্মসূচির প্রধান তদন্তকারী (Principal Investigator) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি STEM (Science, Technology, Engineering and Mathematics) শিক্ষার্থীদের বাস্তব বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যুক্ত করছেন।
নিজ গ্রামে ফিরে অনুভূতির কথা জানিয়ে ড. আদেল বলেন, ১৫ বছর পর নিজের গ্রামে ফিরে আসা আমার জন্য অত্যন্ত আবেগঘন। এখান থেকেই আমার শিক্ষাজীবনের স্বপ্নের শুরু। ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী বলেন, ড. মিয়াহ মুহাম্মদ আদেল আমাদের ইউনিয়নের গর্ব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সাফল্য এ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। শিক্ষা ও বিজ্ঞানভিত্তিক যেকোনো উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
ভিতরভাগ গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান নিরব বলেন, ড. আদেল স্যারের সঙ্গে কথা বলে আমরা বুঝেছি—গ্রাম থেকেই আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানী হওয়া সম্ভব। তার কথাগুলো আমাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।বাগাতিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম তপু বলেন, ড. মিয়াহ মুহাম্মদ আদেলের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানীর নিজ এলাকায় আগমন আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিশ্রম থাকলে এই এলাকার শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।










