টিনের ঝুপড়ি থেকে ফাজিল মাদরাসা: ৩৬ বছরের ত্যাগী শিক্ষকদের অশ্রুসিক্ত বিদায় ও সম্মাননা

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় দক্ষিণ অঞ্চলের অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান এশফাকুল হক মান্না ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত চার শিক্ষককে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ) বিকেলে মাদরাসা প্রাঙ্গণে সাবেক ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা প্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন—আব্দুল হক, আহছান উল্যাহ ও মাওলানা মোতাহেরুল হক।জহির উদ্দিন এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী মো. নুরুল আমিনসহ মোট ৬৫ জন গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সংবর্ধিতদের হাতে ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. বদর উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদরাসার সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান মাছুম। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৯৮৯ সালে মরহুম মেরিন প্রিন্সিপাল আব্দুল হকের হাত ধরে এশফাকুল হক মান্না ফাজিল মাদরাসার যাত্রা শুরু হয়। প্রথমদিকে একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হতো। সে সময় আশপাশে উল্লেখযোগ্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুরো এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ে। সংবর্ধনা প্রাপ্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন নামমাত্র বেতনে শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখেন। সম্মাননা পেয়ে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র মো: ইসমাইল মেহেদী বলেন, “টিনের ঝুপড়ি ঘরে বসেই আমাদের শিক্ষকরা পাঠদান করিয়েছেন। আজ তাদের সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।” সাবেক ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন বলেন, “মাদরাসার ৩৬ বছরের ইতিহাসে এমন বড় আয়োজন আগে কখনো হয়নি। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কৃতি শিক্ষার্থীসহ ৬৫ জন গুণীজনকে সম্মাননা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ইনশাআল্লাহ, এ ধারা ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।” সংবর্ধনা প্রাপ্ত শিক্ষক আহছান উল্যাহ বলেন, “চাকরির শুরুতে বেতন ছিল খুবই সামান্য। কিন্তু আজকের এই সম্মান আমাদের জীবনের বড় প্রাপ্তি। আয়োজকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।” প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাহবুবুর রহমান মাছুম বলেন, “শিক্ষকরাই সমাজ গঠনের মূল কারিগর। তাদের ত্যাগ, মেধা ও নিষ্ঠার মাধ্যমেই প্রজন্ম আলোকিত হয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও যারা জীবনভর শিক্ষাদানে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন, তারা সর্বোচ্চ সম্মানের দাবিদার।”
তিনি আরও বলেন, “টিনের ঝুপড়ি ঘর থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে এসব শিক্ষকের ত্যাগ ইতিহাস হয়ে থাকবে।” অনুষ্ঠানে বিশেষ মুফাসসির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়াছিন করিম। এ ছাড়া মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ, গভর্নিং বডির সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031