
কথিত মাজার দাবি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও প্রভাবশালী চক্রের দখলচেষ্টার অনুসন্ধান সিলেটের ছাতক থানার শক্তিরগাঁও গ্রামে গিয়াস উদ্দিন নামে এক লন্ডন প্রবাসীর মালিকানাধীন মূল্যবান সম্পত্তি জোরপূর্বক আত্মসাৎকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে ওই সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনায় কথিত ‘মাজার’ দাবি, হুমকি-ধমকি ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সামনে এসেছে। কীভাবে শুরু হয় বিরোধ ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শক্তিরগাঁও গ্রামে অবস্থিত জমিটি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন প্রবাসী গিয়াস উদ্দিনের মালিকানাধীন। তিনি প্রবাসে অবস্থান করায় জমিটির দেখভাল করতেন পরিবারের সদস্যরা তার আপন ভাই ইসলাম উদ্দিন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তারই আপন মায়ের পেটের ভাই ইসলাম উদ্দিন ওপর দাবি তোলেন। একপর্যায়ে বিষয়টি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ইসলাম উদ্দিন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ‘গিয়াস উদ্দিন শিল্পীগোষ্ঠী’ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে জমিটিকে কথিত ‘মাজারস্থল’ হিসেবে দাবি করে সেখানে একচেটিয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান। কথিত মাজার দাবি ও দখলচেষ্টা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ করেই জমিটিতে মাজারের অস্তিত্বের দাবি তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো সরকারি অনুমোদন বা ধর্মীয় স্বীকৃতি ছাড়াই ওই জমিকে মাজার হিসেবে প্রচার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে দখল প্রক্রিয়া সহজ করা যায়। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, তারা এ দাবির বিরোধিতা করলে একাধিকবার হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, ইসলাম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে যা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে। পারিবারিক সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিন পারিবারিক সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ান। এতে করে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং সামাজিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর একটি অংশ এ ঘটনাকে সুপরিকল্পিত ভূমি দখলের কৌশল হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনের ভূমিকা ও তদন্ত ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। ছাতক থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভুক্তভোগীর দাবি ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন লন্ডন প্রবাসী , “প্রবাসে থাকায় আমার সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। পারিবারিক সম্পর্ককে ব্যবহার করে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো আমার সম্পত্তি পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে যেত।” তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রবাসীদের সম্পত্তি সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রবাসীদের সম্পত্তি দখলের এমন ঘটনা নতুন নয়। তারা বলেন, দ্রুত আইনি সমাধান না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে। শক্তিরগাঁও গ্রামের এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং প্রবাসীদের সম্পত্তি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নকেও সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অভিযোগের চূড়ান্ত পরিণতি কী হয়।