
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার রামপুর গ্রামে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের স্মারক বড়টিয়া বাড়ী আবারও মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। হযরত শাহ্ সূফী একিন শাহ্ (রহ.)-এর পবিত্র ওরশ মোবারক উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সাতদিনব্যাপী এই আয়োজন ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও লোকজ সংস্কৃতির এক অনন্য সমাবেশে পরিণত হয়েছে। ওরশের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয় দরগাহ্ প্রাঙ্গণে। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় দোয়া, মোনাজাত ও জিকিরে অংশ নেন। কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও ধর্মীয় মাহফিলের মাধ্যমে পুরো পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে পবিত্রতা ও আত্মিক প্রশান্তি। স্থানীয় এক প্রবীণ ভক্ত জানান, শৈশব থেকেই তিনি এই ওরশ প্রত্যক্ষ করে আসছেন। তাঁর ভাষায়, এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান এক গভীর বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।।ওরশ উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী মেলায় ছিল নানা ধরনের হস্তশিল্প, মিষ্টান্ন, খেলনা, পোশাক ও ঘরোয়া পণ্যের সমাহার। নাগরদোলা, চরকি ও আধুনিক রাইডে শিশু-কিশোরদের আনন্দঘন মুহূর্ত মেলাকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। মেলার সাংস্কৃতিক পর্বে পালাগান, লালনগীতি, বাউল সংগীত ও কবিগানের আসর বসে। স্থানীয় ও বাইরের শিল্পীদের পরিবেশনায় গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির আবহে ফিরে আসে অতীতের ঐতিহ্য। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কালিহাতী শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সাংবাদিক শাহ্ আলম জানান, বাংলাদেশে পাঁচটি এবং ভারতে দুটি মাজারে হযরত শাহ্ সূফী একিন শাহ্ (রহ.)-এর ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর মতে, এই আয়োজন আমাদের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওরশ ও মেলা নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশি টহল, স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতা এবং স্বাস্থ্যসেবা বুথ দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে। ওরশের শেষ দিনে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন হাজারো ভক্ত। দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি কামনায় এই মোনাজাত এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাসমত খান ভাসানী বলেন, পূর্বপুরুষদের কাছ থেকেই এই ওরশের কথা শুনে আসছেন তিনি। নিজেকে এই ঐতিহ্যের অংশ মনে করে ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। হযরত শাহ্ সূফী একিন শাহ্ (রহ.)-এর ওরশ ও বড়টিয়া বাড়ীর ঐতিহ্যবাহী মেলা কালিহাতীসহ পুরো অঞ্চলের মানুষের কাছে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও লোকজ সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে প্রতি বছর নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।