১৩ বছরের মরিয়ম নিখোঁজ: রহস্য অব্যাহত

এতিমখানার নির্যাতন, তথ্য গোপন ও সন্দেহজনক আচরণে বাড়ছে উদ্বেগ কক্সবাজার শহরের মুহুরী পাড়ার আল জামিয়া ইমাম মুসলিম এতিমখানা ও মহিলা হোস্টেল, যেখান থেকে ১৩ বছরের ছাত্রী মরিয়ম রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। আর এই নিখোঁজের আগে ঘটে গেছে আরও ভয়াবহ ঘটনা, শারীরিক নির্যাতন, মায়ের প্রবেশে বাধা, আর তথ্য গোপন। ঘটনার শুরু গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায়। পর পর দুটি ফোন, কিন্তু দুটি ফোনে দুটি ভিন্ন গল্প। প্রথমে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি বলে, মরিয়ম হোস্টেল থেকে পালিয়েছে। এক ঘণ্টা পর হোস্টেলের শিক্ষিকা সায়েদা জানান, টাকা চুরির অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়, এরপর রাগ করে সে বের হয়ে যায়। একই ঘটনায় দুই রকম গল্প, যা শুরু থেকেই সন্দেহ বাড়ায়। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও বিস্ময়কর তথ্য, যে বাসা থেকে টাকা চুরি হয়েছে বলা হয়েছিল, সেই গৃহবধূ জানান, “কোনো টাকা চুরি হয়নি। বরং আমি তাকে ১০০ টাকা দিয়েছি।” অর্থাৎ, মরিয়মকে ভুল অভিযোগে অভিযুক্ত করে মারধর করা হয়েছিল। সহকারী শিক্ষিকা সায়েদা স্বীকারও করেন, মরিয়মকে বেত দিয়ে মারধর করা হয়েছে। আরও প্রশ্ন ওঠে যখন, নিখোঁজ সন্তানের রুম দেখতে বারবার চাইলে, মরিয়মের মাকে প্রবেশই করতে দেওয়া হয়নি। এত বড় ঘটনায় এই আচরণ স্বাভাবিক নয়, বলছে স্থানীয়রা। নিখোঁজের পরদিন পুরো এলাকায় মাইকিং চললেও, এতিমখানার অবস্থান ছিল একই, তথ্য গোপন, এড়িয়ে যাওয়া, নীরবতা। সন্ধ্যায় শুরু হয় আরেক নাটক। ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি ছড়াতেই প্রতারক চক্র ফোন করে, ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। র‍্যাব চক্রটিকে ধরলেও, তাদের কাছে মেয়েটি নিয়ে কোনো তথ্যই ছিল না এতিমখানার সহকারী পরিচালক সাউদ নিজামী এবং প্রধান মওলানা, দুজনেই সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্ট তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। কারও ফোন রিসিভ করেননি।
পরিবারের অভিযোগ, জিডি নেওয়া হলেও মামলা নিতে গড়িমসি। তদন্তেও কোনো অগ্রগতি নেই। তদন্তকারীদের সামনে এখন তিনটি সম্ভাবনা, ১) নির্যাতন ও অপমানের ভয়ে মরিয়ম পালিয়ে যেতে পারে, ২) কারও সহায়তায় তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ও ৩) প্রতিষ্ঠানের ভেতর কিছু লুকানো হচ্ছে। এই তিনটির প্রত্যেকটিই এখন সমান সন্দেহজনক।
মরিয়মের মা রিনা আক্তারের আর্তনাদ, “আমার মেয়েকে কেন মারধর করল? কেন আমাকে ঢুকতে দিল না? আমার মেয়ে কোথায়?” এটি শুধু একজন মায়ের প্রশ্ন নয়, এটি পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। ১৩ বছর বয়সী মরিয়মকে দ্রুত খুঁজে বের করা, এতিমখানার ভিতরের ঘটনা উদঘাটন, এবং কঠোর তদন্ত এ মুহূর্তে সময়ের দাবি।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031