ভোলায় কাজী ফার্মসের কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের নামে চলমান দাদন ব্যবসা বন্ধ এবং প্রান্তিক খামারিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজার সংলগ্ন কাজী ফার্মস ভোলা ব্রাঞ্চ অফিসের সামনে ‘প্রান্তিক খামারি রক্ষা পরিষদ’-এর ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। “আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে”—বক্তাদের হুঁশিয়ারি মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কাজী ফার্মসের সিন্ডিকেট-কেন্দ্রিক দাদন ব্যবসার কারণে ভোলার প্রায় দশ হাজার প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি চরম সংকটে পড়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। অন্যদিকে কন্ট্রাক্ট ফার্মগুলোর বাচ্চা ও ফিড কম দামে সরবরাহ করায় প্রান্তিক খামারিরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। তারা বলেন, “ভোলা দ্বীপ জেলা—এখান থেকে বাইরে যাওয়ার সড়ক নেই। ফলে আমরা উৎপাদিত মুরগি এখানেই বিক্রি করতে বাধ্য। কিন্তু কাজী ফার্মস নিয়মিত অসম দামে মুরগি বাজারজাত করায় স্থানীয় উৎপাদন খরচ তুলেই বলা যায় না। একের পর এক ফার্ম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, হাজারো মানুষ বেকার হয়ে পড়ছে।” ৭ দিনের আল্টিমেটাম বক্তারা ঘোষণা দেন—ভোলায় কন্ট্রাক্ট ফার্মিং বন্ধ করা না হলে আগামী সাত কর্মদিবস পর বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করা হবে। তাদের দাবি— প্রান্তিক খামারিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে দাদন ব্যবসা বন্ধ করতে হবে খামারিদের কাছ থেকে ক্রয়কৃত বাচ্চা ও ফিডের দাম যৌক্তিক করতে হবে ভোলার বাজারে উৎপাদিত মুরগি বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে সমতা আনতে হবে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক মো. ইসমাইল গোলদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামরুল আহসান, আব্দুর কাদের বিপ্লব, মো. হারুন, মো. সিরাজ, মো. সুমন, মো. কালু খলিফা, মো. হেলাল খানসহ শতাধিক প্রান্তিক খামারি। স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি শেষে কাজী ফার্মস ভোলা ব্রাঞ্চের ইনচার্জ সালাউদ্দিন পলাশের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা। প্রান্তিক খামারিরা আশা প্রকাশ করেন, “কাজী ফার্মস মানবিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে—নইলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।”