আলমডাঙ্গা প্রিমিয়ার লীগ (APL) আয়োজিত প্রীতি ম্যাচে এক অবিস্মরণীয় জয়ের স্বাক্ষর রাখল আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ একাদশ। নাটকীয় উত্থান-পতন, শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত এবং শেষ বলের ছক্কায় ম্যাচ জিতে নেয় তারা। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে APL পরিবার — চার-ছক্কার ঝড় টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে একঝাঁক শক্তিশালী ক্রিকেটারের সমন্বয়ে গঠিত APL পরিবার শুরু থেকেই চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দেয়। আলমডাঙ্গা থানা একাদশের বোলার ও ফিল্ডাররা শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে। ক্যাচ মিসের পর ক্যাচ মিস—এক লজ্জাজনক অবস্থায় পড়ে যায় থানা দল। মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ১২ ওভারে ১৬৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করায় APL পরিবার। চাপের চূড়ান্ত পরীক্ষায় থানা পুলিশ একাদশ ১৬৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম দিকেই ধাক্কা খায় থানা পুলিশ একাদশ। টপ অর্ডারের দুই ভরসা এএসআই রমেন ও এসআই বাবলু খাঁন দ্রুত আউট হয়ে গেলে পরাজয়ের আভাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু ক্রিকেট তো অনিশ্চয়তার খেলা। চাপ সামলে কনস্টেবল মিলন ও কনস্টেবল আলমগীর হোসেন গড়ে তোলেন একটি সাহসী, স্থির ও লড়াকু পার্টনারশিপ। ৬ ওভারে ৫ উইকেটে ৭২ রান—এ অবস্থায় জয় বেশ দূরেই মনে হচ্ছিল।
শেষ ওভারের তুমুল নাটক
১১ ওভার শেষে থানা পুলিশের সংগ্রহ ১৪১ রান—প্রয়োজন আরও ২৩ রান, হাতে ১ ওভার। ইনজুরির কারণে এক খেলোয়াড়কে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় এএসআই রাসেলকে। এর মধ্যেই সেট ব্যাটসম্যান কনস্টেবল মিলন আউট, জয় যেন অধরাই থেকে যাচ্ছিল। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামেন এএসআই আসাদ। ১২তম ওভারের শুরু: প্রথম বল ওয়াইড দ্বিতীয় বল নো বল ফ্রি হিট—এএসআই আসাদের ছক্কা! শেষ বল—প্রয়োজন ৬ রান। স্টেডিয়ামজুড়ে নীরবতা। তাকিয়ে সবাই আসাদের দিকে। এবং— অসাধারণ, অবিশ্বাস্য, স্মরণীয় একটি বিশাল ছক্কা! অবশেষে ১৬৪ রান করে ১ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ একাদশ। ফলাফল আলমডাঙ্গা APL পরিবার: ১৬৩/৪ (১২ ওভার) আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ একাদশ: ১৬৪/৭ (১২ ওভার) শেষের কথাঃ একঝাঁক পেশাদার ক্রিকেটারের বিপক্ষে হাজারো দায়িত্ব ও স্নায়ুচাপ সামলে খেলতে নেমে থানা পুলিশ একাদশ যে হৃদয়স্পর্শী, লড়াকু ও স্মরণীয় জয় উপহার দিল—তা আলমডাঙ্গার ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকবে। অভিনন্দন টিম আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। সাবাস আলমডাঙ্গা!