
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর মাঠ এলাকা থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল হক (২৭) এবং মাইক্রোবাস চালক আসলাম আলীকে (২৮) আটক করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) গভীর রাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা একটি মাইক্রোবাস তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, ১৭ নভেম্বর গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি চলাকালে সন্দেহজনক অবস্থানের কারণে দু’জনকে আটক করা হয়।
আটক আশরাফুল হক আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে এবং চালক আসলাম আলী একই গ্রামের লোকমান আলীর ছেলে।
আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান (পিপিএম) বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় আছি। মাইক্রোবাসটির অবস্থান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, রায় ঘোষণাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা নাশকতা ঘটাতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ সতর্কতা জারি করে। সেই প্রেক্ষিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আশরাফুল হক আলমডাঙ্গা থানার রাজনীতিতে দাপটের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার করতেন। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা সভাপতি সোলাইমান হক জোয়ার্দারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি এলাকায় ব্যাপক ক্ষমতাশালী ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি গোপনে রাজনৈতিক যোগাযোগ ম্যানেজ করে এলাকায় চলাফেরা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ছাত্রনেতা পরিচয়ে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী— চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে তার নিজস্ব একটি অটো রাইস মিল রয়েছে, আলমডাঙ্গা পৌর বাস টার্মিনাল পাশে একটি বহুতল আধুনিক বাড়িও তার মালিকানাধীন,যা একজন ছাত্রলীগ নেতার পরিচয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, “রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে আশরাফুল হক অল্প সময়ে অটল সম্পদের মালিক হয়েছেন—যা তদন্তের দাবি রাখে।” আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










