পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ’-এর বিশাল অভিযান: চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধার ৬০০ গজের জাল, ৯টি মৃত পাখি!
Spread the love

মোঃ আব্দুল্লাহ হক,চুয়াডাঙ্গা: প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে পরিযায়ী পাখির দল। এই সময় কিছু অসাধু ও লোভী পাখি শিকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে তাদের নিধনযজ্ঞে। তাদের এই বন্যপ্রাণী বিরোধী কার্যক্রম রুখে দিতে গতকাল রবিবার ১৬ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া মাঠে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করেছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠন ‘বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ’ (BWLNI)।
সংগঠনের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু-এর কাছে ফুলবাড়িয়া মাঠে পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে জাল পাতার খবর পৌঁছালে তিনি দ্রুত সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি বন বিভাগ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম সাইফুল্লাহ সদর থানায় জানালে সরোজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ওয়ালিঊর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এছাড়াও শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় মেম্বার এবং গ্রাম পুলিশ অভিযানে অংশ নেন।
BWLNI-এর সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু জানান, এটি ছিল এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় অভিযান। তিনি বলেন, “আমরা প্রায় ৬০০ গজের জাল ও শিকারে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি। সবচেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছি জালের মাঝে ৯টি মৃত পাখি দেখে।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালানোর পরও এভাবে গোপনে পাখি শিকার হওয়ায় তারা মর্মাহত। সংগঠনের সদস্যরা কোমরের গভীর পানিতে নেমে কষ্ট করে এই জালগুলো উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত জাল ও সরঞ্জামাদি স্থানীয় ফুলবাড়িয়া গ্রামের চার রাস্তার মোড়ে আনা হয়। সকলের সামনে মৃত পাখিগুলো প্রদর্শন করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। স্থানীয় মেম্বার ও পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বিনষ্ট করা হয়। মৃত পাখিগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয় এবং উদ্ধারকৃত একটি জীবিত পাখি সকলের সম্মুখে অবমুক্ত করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে ইউএনও-কে তাঁর দ্রুত পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।

সরোজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ওয়ালিঊর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং জালে ৯টি মৃত পাখি ও ৬০০ গজের মতো বিশাল জাল দেখতে পান। তিনি নিশ্চিত করেন, “সেখানে পাখি শিকারীকে সনাক্ত করা গেছে। আমরা চেষ্টা করবো পাখি শিকারী সনাক্তকরণে।” তিনি পাখি শিকারের সরঞ্জাম বিনষ্ট করায় সংগঠনের সভাপতি ও সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে ধন্যবাদ জানান,
এই অভিযানে সংগঠনের সদস্য হাসানুজ্জামান রিগান, বায়জিদ, সতেজ, শাহাবুল, আলমাছ, স্থানীয় ০১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার দুলু, পুলিশ সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এলাকার সুধীমহল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সংগঠনের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার জন্য অনুরোধ করেছেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31