
মোঃ ইলিয়াছ খান : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে থানায়। পৃথক দুটি মামলায় ১২৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৮০০ বেশি জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এসব মামলায় কোন আসামি গ্রেফতার নেই বলে থানার ওসি জানিয়েছেন। রবিবার বেলা আনুমানিক দুইটার দিকে মামলা দুটি দায়েরের বিষয় নিশ্চিত করেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, গতকাল শনিবার পৃথক দুটি অভিযোগ করা হয়। এরে পরিপেক্ষিতে রাতেই বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দুটি রুজু হয়েছে, তবে এখনো কোনো আসামি গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ও স্থানের সূত্রে জানা যায় একটি মামলার বাদী হয়েছেন মজিবুর রহমান। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি শ্যামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর সমার্থক। তার দ্বারে তো মামল ায় ১৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে। এ বিষয়ে কথা বলতে মজিবুর রহমানকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপর মামলার বাদী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক। তার মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞত ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধান অসমী করা হয়েছে উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুকে (৬০)। দুই নাম্বার রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাফর (৮০)। তিন নাম্বার রয়েছে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু (৭৫)। তিনি বর্তমান পলাতক রয়েছে এবং হুমকি দাতা হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় মামলার বাদে সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ৭. নভেম্বর আমাদের বিকালে কর্মসূচির আয়োজন করা হয় এবং ঝুনু মেয়ের কর্মসূচি ছিল সকালে। কিন্তু আমাদের কিন্তু আমাদের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তারা বিকেলে আয়োজন করে প্রকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা করেন। যার পিছনে উস্কানি দিয়েছেন শাহ মুহাম্মদ আবু জাফর ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু। এই বাচ্চা সাহেবের ছেলের নেতৃত্বে খারদিয়া গ্রাম থেকে অস্ত্র নিয়ে লোকজন এসেছিল। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসামিদের মধ্যে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ফরিদপুর -১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, ও মধুখালী) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলের প্রার্থী তালিকায় দুজনের কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই দুই গ্রুপের মধ্যে গত এক বছর যাবত রাজনৈতিক আধিপত্য চলে আসছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকালে উপজেলা সদরে ওয়াদা মোড় এলাকায় বিপ্লব ও সহিংসতি দিবসে কর্মসূচি থেকে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।










