সোমবার (৩ নভেম্বর ২০২৫) জাতীয় জেলহত্যা দিবস। জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন এটি। ১৯৭৫ সালের এই দিনে রাতের আঁধারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ক্ষমতা দখল ও ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় কারাগারের নিরাপদ প্রাচীরের ভেতরে বন্দি অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় এই চার নেতাকে।এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ২১ বছর মামলার তদন্ত বন্ধ ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় মামলার কার্যক্রম শুরু হয়।প্রায় ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনই পলাতক।যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর দেশে ফেরেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হয় ২০২০ সালের এপ্রিলে। জাতীয় জীবনে জেলহত্যা দিবস শুধু শোকের নয়, গভীর বেদনা ও চেতনাজাগরণের দিনও বটে। জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে স্বাধীন বাংলাদেশের এই চার মহান নেতাকে, যাদের অবদান ও আত্মত্যাগ চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।