
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ময়মনসিংহে তৃণমূল পর্যায়ের ১৫০ জন নারী উদ্যোক্তার হাতে প্রশিক্ষণ ভাতার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।রবিবার (২ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে শহরের বাঘমারা এলাকায় অবস্থিত তৃণমূল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মহিলা সংস্থা বাস্তবায়িত “তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প”-এর আওতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও যুগ্ম সচিব মুফিদুল আলম।অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন প্রকল্পের মেট্রোপলিটন এলাকার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মিলি রেজা। সহযোগিতায় ছিলেন হাউস কিপিং ট্রেডের ট্রেইনার মোঃ রাসেল মিয়া এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স ট্রেডের ট্রেইনার মোঃ নূরুল হুদা।তিনটি ট্রেড— হাউস কিপিং, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও ই-কমার্স, এবং ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং—এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রত্যেক ট্রেড থেকে ৫০ জন করে মোট ১৫০ নারী উদ্যোক্তাকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।চেক বিতরণের সময় জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন,
“নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নই টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। তৃণমূল পর্যায়ে এই প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা নারীদের আত্মনির্ভরতার দ্বার উন্মুক্ত করছে।”তিনি আরও বলেন, “সরকারের এ উদ্যোগ শুধু নারীদের কর্মসংস্থানই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। সমাজে নারী উদ্যোক্তা তৈরি হলে পরিবার, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য আসবে।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা এখন ক্ষুদ্র ব্যবসা, সেবা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন— যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারীরা শুধু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়, বরং নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য নারীদেরও অনুপ্রেরণা জোগাবেন।উল্লেখ্য, “নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প” দেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসা উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের হাতে ফুল তুলে দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানান। তারা জানান, এই প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক সহায়তা তাদের জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে— কেউ নিজে ছোট ব্যবসা শুরু করেছেন, কেউ অনলাইনে পণ্য বিক্রি করছেন, আবার কেউ ঘরে বসেই সেবা প্রদান করে পরিবারের আয়ে অবদান রাখছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংগঠকরা বলেন, নারী উদ্যোক্তা তৈরির এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ময়মনসিংহ হবে নারীর স্বনির্ভরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।









