সুনামগঞ্জ,শাল্লা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষায় মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমী 'মেধা যাচাই বৃত্তি পরীক্ষা' অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাল্লা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই পরীক্ষা সুনামগঞ্জের শাল্লায় শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। জেলা প্রশাসকের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সময়ের স্বল্পতার কারণে প্রায় কেন্দ্রেই পরিদর্শন করতে পারেননি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পরিমল চন্দ্র ঘোষ। বিশ্বপতি চক্রবর্তী বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির উদ্দেশ্যেই এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় এবং অভিভাবকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শাল্লা উপজেলার সমাজ সেবা অফিসার বিশ্বপতি চক্রবর্তী ও শম্ভু দেবনাথ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এই ধরনের পরীক্ষা অত্যন্ত সহায়ক।হাফিজ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও আটগাঁও পাঁচহাটি সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত: হল সুপার লিটন,কান্তি তালুকদার কেন্দ্র সচিব প্রদ্যোত কুমার বলেন,যারা এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য ভালো মানের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাই, আমাদের শিশুরা মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। জনাব,বদরুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের এই ঘোষণা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান বাড়াবে না, বরং প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার কমাতেও সাহায্য করবে। বিউটি তালুকদার বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি করবে এবং তাদেরকে আরও বেশি মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।
শম্ভুদেব নাথ বলেন,পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। এই উদ্যোগ সুনামগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং আগামী দিনে আরও অনেক শিক্ষার্থীকে তাদের মেধা বিকাশে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।