
পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও — বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী পীরগঞ্জে নতুন ধরনের আর্থিক প্রতারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ‘ক্রিপ্টো ট্রেডিং’, ‘AI-বট ইনভেস্টমেন্ট’ ও ‘বট ইনকাম’ নামে সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদেরকে প্রলোভিত করে তোলা হচ্ছে — প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে নতুন সদস্যের টাকা সংগ্রহ করা, বিনিয়োগ নয়।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অনেকেই বিদেশভিত্তিক এক্সচেঞ্জ (বিশেষত P2P প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে) মাধ্যমে bKash, নগদ বা রকেট পাঠিয়ে এসব চক্রে যোগ দিচ্ছেন; একটি লেনদেনই লাখ টাকার ওপর বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও ধরা পড়েছে। এমন লেনদেনগুলো কিন্তুর আসলে ভার্চুয়াল অ্যাসেটের আড়ালে করা হচ্চে আর তা দ্রুত অফশোরে বা অননুমোদিত খাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে—যা মানি-লন্ডারিং ও প্রতারণার লক্ষণ বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক বহুবার জানিয়েছে ভার্চুয়াল মুদ্রা ও অননুমোদিত ফরেক্স ট্রেডিং দেশের আইনে অনুমোদিত নয়। পাশাপাশি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সংশোধিত আইসিটি ধারা অননুমোদিত ডিজিটাল লেনদেনকে কঠোরভাবে বিচার্য করে—জরিমানা থেকে শুরু করে কয়েক বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত শাস্তি বিধান আছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন একাধিক ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট লক্ষ্য করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের পঞ্জি বা পিরামিড স্কিমগুলো নতুন বিনিয়োগকারীর অর্থ দিয়ে পুরাতনদের ‘লাভ’ দেখানোর মাধ্যমে কাজ করে; নতুন সদস্য না এলে প্ল্যাটফর্ম গুটিয়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্তরা সঞ্চয় হারায়। একজন অনামী অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন—এই বিষয় শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিও তৈরি করে।
পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিষয়টি নজরে রেখেছেন এবং অনলাইন উৎস খতিয়ে দেখতে সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয়দের অনুরোধ—যদি কেউ সন্দেহজনক ‘ইনভেস্টমেন্ট’ বা ‘বট-ট্রেডিং’ প্রস্তাব পায়, তা অপারেশনাল ধাপে টাকা না পাঠিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানাতে।
কী করবেন (সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকা):
• অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত বা এমএফএস মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন না।
• গুরুতর লাল পতাকা: অবাস্তব উচ্চ রিটার্ন (মাসিক ৫–১০% নিশ্চয়তা), ‘রেফার-অনলি’ মডেল, সার্ভার বা অফিস-লিনক অস্বচ্ছতা।
• সন্দেহ হলে স্থানীয় পুলিশ/উপজেলা প্রশাসন বা BFIU/ব্যাংককে জানাতে হবে।
সম্পূর্ণ তদন্ত ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের ট্রেসিং ব্যতীত এই চক্রের রুট বন্ধ করা কঠিন—তাই সচেতনতা ও দ্রুত রিপোর্টিংই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।