শুভ্র মজুমদার, কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশ এক সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদ বুলবুলকে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ অক্টোবর দুপুরে বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শিক্ষক বুলবুল ওই ছাত্রীকে ডেকে শারীরিকভাবে অনভিপ্রেত আচরণ করেছেন। প্রথমে ভয় ও লজ্জার কারণে ছাত্রীটি কাউকে কিছু জানায়নি, তবে বাড়ি ফেরার পর ফুফু ও চাচীর কাছে বিষয়টি খুলে বলে।
ঘটনার পর ৯ অক্টোবর বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মিলে ১০৮ জনের স্বাক্ষরসহ একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে জমা দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, প্রথমে ভাবছিলাম উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে আইনের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
পরে ২২ অক্টোবর রাতে কালিহাতী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ শিক্ষক বুলবুলকে গ্রেপ্তার করে। কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, মামলার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কালিহাতী উপজেলা শাখার সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম বলেন, শিশুরা শিক্ষকের কাছেই নিরাপত্তা ও স্নেহের আশ্রয় খুঁজে পায়। কিন্তু আজ সেই শিক্ষকই নির্দোষ শিশুকে শিকার করেছেন। আমরা চাই, শুধুমাত্র অভিযুক্ত শিক্ষক নয়, এমন নিকৃষ্ট কাজকে গোপন বা প্রশ্রয় দেওয়া যারা তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হোক। মানবতার পাশে দাঁড়ানো মানে আজ শিশুদের পাশে দাঁড়ানো।