মো: আরিফুর রহমান অরি : প্রকৃতির মনোরম লীলাভূমি শেরপুর ও জামালপুর জেলার দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার দুইদিনব্যাপী বার্ষিক আনন্দভ্রমণ উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ভ্রমণটি সাংবাদিকদের মাঝে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ঐক্য আরও দৃঢ় করেছে। গত ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল ৮টায় প্রেসক্লাব সাটুরিয়া কার্যালয়ের পাশের ডাকবাংলো থেকে প্রবীণ সাংবাদিক মো. ইউনুস আলীর দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ভ্রমণের যাত্রা শুরু হয়। যাত্রার শুরু থেকেই ছিল উৎসবমুখর আবহ—সদস্যদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস। পথিমধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে সকালের নাস্তার বিরতি নেওয়া হয়। এরপর গজারী বনের সবুজ ছায়ায় ফটোসেশন ও সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে পুনরায় যাত্রা শুরু করে কাফেলা। দুপুর নাগাদ গাড়ি পৌঁছে যায় ময়মনসিংহে। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রাবিরতি করে সদস্যরা। বিদ্রোহী কবির স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস, মুখে মুখে বাজে কবির গান ও কবিতা। এরপর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে মধ্যাহ্নভোজ সারেন সবাই। মাছ চাষের ঘের পরিদর্শন শেষে বিকেলে কাফেলা পৌঁছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে। পূর্বনির্ধারিত অতিথিশালায় বিশ্রাম শেষে স্থানীয় মুখরোচক খাবারে রাতের ভোজ সেরে গল্প-আড্ডায় জমে ওঠে রাতের পরিবেশ। প্রথম দিনের ভ্রমণ শেষ হয় এক পরিপূর্ণ আনন্দময়তায়। পরদিন সকালে ৪২ বছরের পুরনো স্থানীয় রেস্তোরাঁয় বিখ্যাত তুলসিমালা ধানের খিচুড়ির নাস্তা শেষে সবাই রওনা দেন গজনী অবকাশকেন্দ্রের পথে। গজনীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গারো মা ও শিশুসন্তানের প্রতীকী ভাস্কর্য এবং আকাশচুম্বি টাওয়ার থেকে দৃশ্যমান ভারতের মেঘালয়ের দৃশ্য—সব মিলিয়ে সবাই মুগ্ধ। এরপর জামালপুরের লাউচাপড়া অবকাশকেন্দ্র ও বকশিগঞ্জ-মেলান্দগঞ্জ সীমান্ত পরিদর্শনের সময় বন্য হাতির দেখা পাওয়ায় মুহূর্তটি আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। দুপুরের খাবারের পর ফেরার পথে টাঙ্গাইলের মধুপুরে পাহাড়ি আনারসের স্বাদ ও কালিহাতীতে চা পানের বিরতি শেষে রাত ৯টার দিকে কাফেলা ফিরে আসে সাটুরিয়ায়। দুইদিনের এই আনন্দভ্রমণ অংশগ্রহণকারীদের মনে রেখেছে অনন্য এক অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির ভাণ্ডার। সদস্যরা একবাক্যে বলেছেন,“এ ভ্রমণ শুধু বিনোদন নয়, আমাদের পেশাগত বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ককে করেছে আরও দৃঢ়।”