
জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে মধ্যরাতে মেরিন ড্রাইভ সৈকত এলাকায় পরিচালিত বিজিবির এক ঝটিকা অভিযানে গভীর সাগরে মালয়েশিয়া পাচারের মুহূর্তে ২৯ জন নারী-পুরুষ-শিশু নিরীহ ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার এবং ৩ জন মানব পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার ২২ অক্টোবর দুপুরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) দুটি সফল অভিযান করেছে। যা পাচারকারী চক্রগুলোর মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছে। পাহাড়ে সশস্ত্র পাচারকারীদের গোপন আস্তানা গুড়িয়ে দেওয়ার পর রাজাছড়ায় পরিচালিত অভিযানের সূত্র ধরে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নজরদারি সমুদ্র উপকূলের দিকে নিবদ্ধ করে। অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়া আসামীরা বেশ কিছু ভুক্তভোগীকে সমুদ্রপথে পাচারের চেষ্টা করে। সন্ধ্যায় মেরিন ড্রাইভ সৈকতের কৌশলগত বেশকিছু পয়েন্টে বিশেষ টহল দলের সদস্যরা নিবিড় নজরদারি শুরু করে। রাত গভীর হলে সমুদ্র উপকূলে থেকে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। অধিনায়কের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা দ্রæত ঘটনাস্থলটিকে ঘিরে ফেললে দেখতে পায় মানব পাচারকারী চক্র গোপনে ২৯ জন ভুক্তভোগীকে একটি নৌযানে গভীর সাগর দিয়ে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য প্রস্তত করছে। বিজিবির দ্রæত ও কার্যকরী হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগীদের অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক সমুদ্র যাত্রা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই মানব পাচারের দায়ে চক্রটির ৩ জন মূলহোতাকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃত মানব পাচারকারী দালাল আসামীরা হলেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মহেষখালিয়া পাড়া মৃত মোজাহার মিয়ার পুত্র মো. সলিম (৩৫), মজিবুর রহমানের পুত্র মো. নুরুল আবছার (১৯), উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বøক-এ এফসিএন নম্বর-১৪৬৭৯১ করিমুল্লাহর পুত্র মনসুর আলম (২২)। এ মামলায় মানব পাচারকারী দালাল হিসাবে ৩ জনকে পলাতক আসামী করা হয়েছে। এরা হলেন আব্দুল হাসিমের পুত্র মো. মাহমুদুল হক (৩১), আলী আহমদের পুত্র সৈয়দুল ইসলাম (৩৭), আব্দুল হাসিমের পুত্র আজিজুল হক (৩০)। এরা সকলেই টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মহেশখালিয়া পাড়ার বাসিন্দা। তাছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনকে আসামী করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চাকু-১টি, মোটর সাইকেল-১টি, ইঞ্জিন চালিত নৌকা-১টি। উদ্ধারকৃত ২৯ জন ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর এবং আটককৃত ৩ জন মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা রুজু করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। ##









