
জাফর জুয়েল : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে চলছে চরম অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। নিয়োগবিহীন এক নৈশপ্রহরী ইমরান দিনের বেলায় প্রাণীদের ভ্যাকসিন প্রদান করছেন— এমন বিস্ময়কর তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইমরান নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিয়োগপত্র ছাড়াই অফিসে নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সুযোগ পেলেই অফিসের মাঠকর্মীদের মতো পশু-পাখিকে ভ্যাকসিনও প্রদান করেন। এই বিষয়ে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং “সাংবাদিকদের পকেটে রাখা যায়” বলে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এতে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “ইমরান অনেক অভিজ্ঞ, তাই মাঝে মাঝে কাজ করে।” তবে ইমরানের নিয়োগপত্র দেখাতে না পেরে তিনি স্বীকার করেন, ইমরান তার পরিচিত ও আত্মীয়। তিনি আরও বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।” স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি— নিজ জেলার আত্মীয়কে নিয়োগবিহীনভাবে সরকারি দপ্তরে কাজে রাখা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা স্পষ্টভাবে প্রশাসনিক অপরাধ। এই বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রাণিসম্পদ অফিসে চলমান এই অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়, প্রাণীস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।










